ভারতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় অব্যাহত বাড়ছে ইস্পাতের চাহিদা। বিশেষ করে ধাতুটির ব্যবহার বৃদ্ধিতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে অবকাঠামো নির্মাণ খাত। তবে চাহিদা বাড়লেও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে দেশটির ইস্পাত শিল্প। অস্বাভাবিক হারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন উৎপাদকরা।
পরিশোধিত ইস্পাতের নিট আমদানিকারক দেশ হিসেবে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষ করেছে ভারত। বিষয়টি খাতসংশ্লিষ্টদের জন্য অশনিসংকেত বয়ে এনেছে। আমদানি পরিস্থিতিতে এমন পরিবর্তন ইস্পাত খাত ও এতে স্বনির্ভরতা অর্জনে কতটুকু নেতিবাচক প্রভাব রাখবে, তা নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন তারা।
সরকারি তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত অর্থবছর ভারত ৮৩ লাখ টন পরিশোধিত ইস্পাত আমদানি করে, এর আগের বছরের তুলনায় যা ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ঊর্ধ্বমুখী এ আমদানি ভারত সরকারের ইস্পাত উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করবে।
আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ইস্পাত উৎপাদনের সঙ্গে জড়িতরা বিপাকে পড়েছেন। এরই মধ্যে তারা সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বমুখী আমদানিতে লাগাম টেনে ধরার পাশাপাশি উৎপাদন খাতে সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি তুলেছেন তারা। অতীতেও ইস্পাত কোম্পানিগুলোর অ্যাসোসিয়েশন এমন দাবি জানিয়েছিল। তবে ইস্পাত বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এ বিষয়ে দ্য হিন্দুকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইন্ডিয়ান স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আলোক সহায় বলেন, ‘চীন থেকে অস্বাভাবিক হারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় ভারতের ইস্পাত খাতে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন হুমকির মুখে পড়েছে। নিট আমদানিকারক দেশে পরিণত হওয়ার বিষয়টি এক্ষেত্রে সতর্কবার্তা হিসেবেই কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইস্পাত আমদানিতে কম শুল্ক কিংবা শুল্কমুক্ত সুবিধা আমদানিকারকদের উৎসাহিত করছে। এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে তারা কম দামে বিপুল পরিমাণে ইস্পাত কিনছেন। ভারতীয় ইস্পাত কোম্পানিগুলো বর্তমানে এ অবস্থার পরিবর্তন চায়।
ভারত সরকার সম্প্রতি ইস্পাত শিল্পের জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বছরে ৫০ কোটি টন ইস্পাত উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।










