২০০২ সালে দা হং পাওয়ের শেষবার সংগ্রহ করা পাতার মাত্র ২০ গ্রাম বিক্রি হয়েছিল ১ লাখ ৮০ হাজার ইউয়ানে। সে সময় এর দাম ওঠে প্রায় ৩৫ হাজার ডলার। দা হং পাও মূলত দুষ্প্রাপ্যতা, বহু শতাব্দীর ঐতিহ্য ও অনন্য স্বাদের জন্য অত্যন্ত সমাদৃত ও মূল্যবান পানীয়।

দা হং পাও উৎপাদন হতো চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের উয়ি পর্বতমালায়। অঞ্চলটি চা উৎপাদনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানকার মাটি খনিজ সমৃদ্ধ। পাহাড়ি ঝরনার পানি প্রাকৃতিকভাবে চা-বাগানে সেচের কাজ করে। এসব ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য চায়ের স্বাদ ও মানে প্রভাব ফেলে।

দা হং পাওয়ের উচ্চমূল্যের পেছনে শুধু এর স্বাদ বা উৎপাদনস্থল নয়, রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস ও একটি কিংবদন্তিও। কথিত আছে, মিং রাজবংশের সময় গুরুত্বপূর্ণ এক ব্যক্তি (সম্রাট) বিরল রোগে আক্রান্ত হন। উয়ি পর্বতমালার পাথুরে এলাকায় জন্মানো গাছের পাতা দিয়ে তৈরি পানীয় পান করে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।

এ ঘটনার পর সম্রাট ওই গাছগুলো ঢেকে দেয়ার জন্য বড় লাল পোশাক পাঠান বলে কথিত আছে। চীনা ভাষায় দা হং পাওয়ের অর্থ ‘বড় লাল পোশাক’। এখনো এ নামের সঙ্গে সে ঐতিহাসিক গল্প জড়িয়ে আছে।

বর্তমানে এর ছয়টি আদি বা ‘মাদার ট্রি’ (মূল গাছ) টিকে আছে। তবে এখন ওই মূল গাছগুলোর পাতা সংগ্রহ করা যায় না। এগুলো চীনের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সম্পদ হিসেবে সংরক্ষিত। ফলে মূল গাছ থেকে পাওয়া দা হং পাওয়ের সরবরাহ খুবই সীমিত।

মূল গাছ থেকে পাতা সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও দা হং পাও নামটি বাজারে টিকে আছে। উয়ি অঞ্চলের চাষীরা মূল গাছের কাটিং অন্য জায়গায় লাগানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সে চাষ সহজ হয়নি। প্রত্যাশিত ফলও পাওয়া যায়নি।

চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে দা হং পাও নামে বিভিন্ন ধরনের চা বিক্রি শুরু হয়। ২০০৭ সালে একটি গবেষণা কেন্দ্র দা হং পাওয়ের নাম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার চেষ্টা করে। সংস্থাটির প্রস্তাব ছিল, নির্দিষ্ট কিউই ড্যান জাতের গাছ থেকেই এ চা উৎপাদন করতে হবে। কিন্তু বাজারের চাপের কারণে বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি।

—পেপার অ্যান্ড টি অবলম্বনে