২০২২ সালে বিশ্বের বিভিন্ন খাতে সাইবার হামলা ও তথ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৈশ্বিকভাবে ব্যাংক খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। এসব প্রতারণার বেশির ভাগই ছিল অনলাইনভিত্তিক। চলতি বছর এ ধরনের ঘটনা আরো বাড়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংক। খবর বিবিসি।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংক বার্কলে জানায়, ৭৭ শতাংশ প্রতারণাই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মার্কেটপ্লেস বা ডেটিং অ্যাপে হচ্ছে। টিএসবি ব্যাংকের মতে, ছদ্মবেশ, বিনিয়োগ এবং কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্রতারণার বেড়েছে। এক বছরে হোয়াটসঅ্যাপে ছদ্মবেশী প্রতারকের সংখ্যা তিন গুণ হয়েছে। এ সময়ে ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে ভুয়া অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরো বলছে, মেটা মালিকানাধীন প্লাটফর্ম যেমন হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে প্রতারকের সংখ্যা বেড়েছে প্রবলভাবে। জবাবে মেটার মুখপাত্র বলেন, ‘প্রতারণা মূলত কোনো একটি খাত বিস্তৃত বিষয়। প্রতারকরা এখন জনগণের সঙ্গে প্রতারণার জন্য ক্রমাগত অভিজাত পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তার মধ্যে ই-মেইল, এসএমএস এবং অফলাইন প্রচেষ্টাও আছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না কেউ এসব অপরাধীর মাধ্যমে ক্ষতির শিকার হন, সেজন্যই আমাদের স্ক্যাম ব্লক করার পদ্ধতি আছে। ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাডভাইজারদের এখন ফাইন্যান্সিয়াল কনডাক্ট অথরিটি (এফসিএ) অনুমোদিত হতে হয়। এমনকি আমরা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য বেশকিছু প্রচারণাও চালাচ্ছি, যেন প্রতারণামূলক আচরণ নির্ধারণ করা যায়।’
লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপের ফ্রড প্রিভেনশন ডিরেক্টর লিজ জিগলার বলেন, ‘ব্যাংকগুলো এখন প্রতারণার মহামারীর মধ্যে পড়েছে। মূল টেক প্লাটফর্মের মাধ্যমে ৭০ শতাংশের বেশি প্রতারণা শুরু হয়। মূল উৎসেই এসব প্রতারণা বন্ধ না করার জন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করা যায় এবং নিরীহ ভুক্তভোগীদের জন্য সব বিষয় ঠিকঠাক করা যায়।’ অন্যদিকে ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী আলিসন রোজ বলেন,‘২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের ৩০ লাখ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছে। এ সময় প্রতারণা বেড়েছে ৮৭ শতাংশ।’ ন্যাটওয়েস্টের পরিসংখ্যান বলছে, ৬০ শতাংশ প্রতারক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তি প্লাটফর্মেই প্রতারণা করেছে।
টিএসবি ব্যাংক জানায়, ৬০ শতাংশ প্রতারকের বিষয়ে তারা সতর্ক। যেখানে প্রতারকরা এমন কিছু বিক্রি করার জন্য আগ্রহী থাকে যেটা সে কখনো ক্রেতার কাছে পাঠাবেই না। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে এমনটা বেশি ঘটে এবং ছদ্মবেশী প্রতারণার দুই-তৃতীয়াংশ ঘটে হোয়াটসঅ্যাপে। ব্যাংকটি জানিয়েছে, গত বছর এসব বিষয় ঠিকঠাক করতে তাদের ২ হাজার ৬৫০টি রিফান্ড ইস্যু করতে হয়েছে।
টিএসবির ডিরেক্টর অব ফ্রড প্রিভেনশন পল ডেভিস জানান, তার বিশ্বাস ভোক্তাদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলো খুব দ্রুতই তাদের প্লাটফর্ম পরিচ্ছন্ন করে ফেলবে।










