বিশ্ববাজারে চিনির দাম বেশ চড়া। চার বছরে সর্বোচ্চে। আর খাদ্যপণ্যটির বাড়তি এ দাম ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য যেন আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। কারণ দেশটি চলতি সরবরাহ মৌসুমে মাত্র আড়াই মাসেই ৪৩ লাখ টন চিনির ক্রয়াদেশ পেয়েছে দেশটি। ফলে এ মৌসুমে খাদ্যপণ্যটির রফতানিতে রেকর্ড প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর ইকোনমিক টাইমস।

বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ ভারত। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর উৎপাদিত চিনির একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রফতানি করে দেশটি। রফতানির মধ্যে অন্যতম গন্তব্য থাকে ইন্দোনেশিয়া, দুবাই, আফগানিস্তান, শ্রীলংকা ও আফ্রিকান দেশগুলো। আর দেশটিতে বতর্মানে ২০২-২১ সরবরাহ মৌসুম চলছে, যা শেষ হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর। তবে খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (ইসমা) বলছে, এ মৌসুমে এরই মধ্যে ৪৩ লাখ টন চিনি রফতানির ক্রয়াদেশ পেয়েছে তারা। দেশটির ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে একদিকে যেমন বাড়তি দামে চিনি বিক্রি করা যাবে, অন্যদিকে দেশটির মজুদের পরিমাণও কমে আসবে।

কয়েক বছর ধরে চিনির বাড়তি উৎপাদন ও মজুদ নিয়ে বিপাকে রয়েছে ভারত। বিপুল এ মজুদ কমিয়ে আনতে সরকার রফতানিতে ভর্তুকি দিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি রফতানি কোটাও নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ফলে দুই বছর ধরে দেশটির চিনি রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যটির দ্বিতীয় শীর্ষ সরবরাহকারী থাইল্যান্ডে এবার উৎপাদন কমেছে। ফলে বৈশ্বিক বাজারে বাড়তি সরবরাহের সুযোগ পেয়েছে ভারত। যে কারণে এ মৌসুমে দেশটির চিনি রফতানির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসমার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ এ ক্রয়াদেশের চুক্তি একটি বড় অর্জন। কারণ মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই এ পরিমাণ চিনির ক্রয়াদেশ পেয়েছে তারা। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর রফতানি কোটা নির্ধারণ করে দেয়ার পর যা সর্বোচ্চ। ফলে স্থানীয় বাজারে খাদ্যপণ্যটির দামে যেমন ভারসাম্য ফিরবে, তেমনি কৃষকরাও সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য পাবেন। ক্রয়াদেশ পাওয়া চিনির মধ্যে এরই মধ্যে ২২ লাখ টন চিনি সরবরাহও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মৌসুমে ৬০ লাখ টন চিনি রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইসমা। রফতানীকৃত এ চিনির বিপরীতে টনপ্রতি ৫ হাজার ৮৩৩ রুপি ভর্তুকি দেবে সরকার। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে ভারতীয় চিনিকলগুলো ২ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টন চিনি উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।