যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধপণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাস মিলেছে। স্থানীয় ও রফতানি বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদা উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করবে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দুগ্ধপণ্য উৎপাদক দেশ। ইউএসডিএ জানায়, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধপণ্য উৎপাদন ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গরু লালন-পালন বৃদ্ধি এবং গরুপ্রতি দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির পূর্বাভাসও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে বিশ্ববাজারে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম চড়া। এ কারণে চলতি বছর দুধের বার্ষিক গড় দাম (সরাসরি খামারিদের পরিশোধযোগ্য) ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়তে পারে।
ইউএসডিএ বলছে, বর্তমানে পানীয় দুগ্ধপণ্যের চাহিদা নিম্নমুখী। তবে ভোক্তাদের কাছে পনির ও মাখনের চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখিতা বাজারকে চাঙ্গা রাখবে। অন্যদিকে এশিয়ার দেশগুলোতে দুগ্ধপণ্যের আমদানি চাহিদাও যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে জানায় ইউএসডিএ।
পণ্যবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্সবক্সের দেয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধপণ্য উৎপাদনে গত বছরও লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি এসেছিল। ওই সময় দেশটি সব মিলিয়ে ১০ কোটি টন দুধ উৎপাদন করে, যা এর আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদার কারণে আগামী দুই বছরও প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় ইনডেক্সবক্স।
২০১৯ সালে দুধ উৎপাদনশীল গরুর সংখ্যা বেড়ে ৯ হাজার ৩৩৭টিতে পৌঁছেছিল। গত বছর এ সংখ্যা আরো বেড়ে ৯ হাজার ৩৭৭টিতে পৌঁছায়। তবে এ সংখ্যা ২০১৭-১৮ সালের গণ্ডিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি।
এদিকে গ্রীষ্মকালীন খরার কারণে গবাদি পশু খাদ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারীর প্রভাব। এসব কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধ এবং আগামী বছর গরু জবাই এবং মাংস বিক্রির পরিমাণ বাড়তে পারে। কমে যেতে পারে দুধ উৎপাদনশীল গরুর পরিমাণ। এমন পরিস্থিতিতেও দুধ উৎপাদন চাঙ্গা থাকবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। গরুর পরিমাণ কমলেও গরুপ্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি মোট উৎপাদনকে ত্বরান্বিত করবে।
ইউএসডিএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছর খামারি পর্যায়ে দুধের বার্ষিক গড় দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ৪৩ সেন্টে উন্নীত হবে। গবাদি পশুর খাদ্যের বাড়তি দামের কারণে পণ্যটির দাম বাড়বে। তবে এ বছর উৎপাদন প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়লে আগামী বছর দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে লিটারপ্রতি ৪২ সেন্টে নেমে আসতে পারে। যদিও গত বছরের তুলনায় বেশি দামে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হবে। ২০২০ সালে প্রতি লিটার দুধের দাম ছিল ৪১ সেন্ট।
এক দশক ধরে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে দুগ্ধপণ্যের ব্যবহার। এ সময়ের মধ্যে তরল দুধ এবং সব ধরনের প্রক্রিয়াজাত দুগ্ধপণ্যের মাথাপিছু ব্যবহার ৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। গত বছর মাথাপিছু ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৩৫৪ কেজি। তবে বর্তমানে দুগ্ধপণ্যের চাহিদার অবকাঠামো বদলাচ্ছে। মার্কিনরা বর্তমানে তরল দুধের তুলনায় পনির ও মাখন বেশি ব্যবহার করছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে দেশটির দুগ্ধপণ্যের বাজার নির্ভর করবে প্রক্রিয়াজাত দুধের ব্যবহারের ওপর। অন্যদিকে এশিয়ার দেশগুলোতে দুগ্ধপণ্য আমদানি বাড়ছে। ফলে দুগ্ধপণ্য রফতানি খাতকে সম্প্রসারিত করছে যুক্তরাষ্ট্র।










