চলতি বছরের জুলাইয়ে জার্মানির কারখানাগুলোয় ক্রয়াদেশ এসেছে প্রত্যাশার চেয়ে কম। মন্থরতায় থাকা ইউরোপের বৃহৎ অর্থনীতির দেশটির জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। জার্মানির ফেডারেল পরিসংখ্যান সংস্থা ডেস্টাটিসের মতে, দেশটির জুলাইয়ের ক্রয়াদেশ জুনের তুলনায় কমেছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ। খবর দ্য জাকার্তা পোস্ট। 

ক্রয়াদেশকে কোনো দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কার্যক্রমের লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। জুনে দেশটিতে ক্রয়াদেশের যে ধারা ছিল তা জুলাইয়ে কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ জুনের তুলনায় মহাকাশ খাতে তেমন কোনো ক্রয়াদেশ ছিল না। জুনে শুধু মহাকাশ খাতে অপ্রত্যাশিত ৭ দশমিক ৬ শতাংশ ক্রয়াদেশ বেশি ছিল বলে জানিয়েছে ডেস্টাটিস। 

আর্থিক তথ্য সংস্থা ফ্যাক্টসেটের জরিপে জুলাইয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশের ক্রয়াদেশ পতনের পূর্বাভাস ছিল। জুলাইয়ে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ ক্রয়াদেশ বৃদ্ধির কথা থাকলেও তা বৃ্দ্ধি হয়নি বলে জানিয়েছে ডেস্টাটিস। দেশটির অর্থমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বড় ধরনের ক্রয়াদেশের ওপর ভিত্তি করেই মূলত মাসিক ক্রয়াদেশের হিসাবনিকাশ ওঠানামা করে। তবে বর্তমান ব্যবসায়িক পরিবেশ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জরিপানুযায়ী ক্রয়াদেশ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়াটা সহজ ব্যাপার নয়।’

দেশটিতে জুলাইয়ে বিদেশী ক্রয়াদেশ কমেছে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ, এছাড়া জুনের তুলনায় দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমেছে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ। বর্তমানে দেশটি শীতকালীন অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন দেশটির এ অর্থনৈতিক মন্দা আরো দীর্ঘ হতে পারে।

দেশটিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ফলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শিল্পোৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে চলতি বছরে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট প্রকট হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্যানুযায়ী ২০২৩ সালে দ্বিতীয় প্রান্তিকে জার্মানির অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল, তার আগে টানা দুই প্রান্তিকে ছিল অর্থনৈতিক সংকোচন। প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে জার্মানিই একমাত্র, যার অর্থনীতি ২০২৩ সালে সংকোচনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।