চীনের পরিষেবা খাতের কার্যক্রম গতি পেয়েছে। গত পাঁচ মাসের মধ্যে জানুয়ারিতেই প্রথমবারের মতো বেড়েছে এ খাতের কার্যক্রম। সম্প্রতি প্রকাশিত বেসরকারি খাতের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির পরিষেবা কার্যক্রমে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। কভিড-১৯ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা ও ভ্রমণবিষয়ক বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ফলে ব্যয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসায়িক আস্থা বেড়েছে। খবর রয়টার্স।

জানুয়ারিতে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল সার্ভিস পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ৯ পয়েন্ট। ডিসেম্বরে যা ছিল ৪৮ দশমিক শূন্য পয়েন্ট। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে অবস্থান মূলত কার্যক্রমের সম্প্রসারণ নির্দেশ করে। একই সঙ্গে গত মাসে এ অগ্রগতি চার মাসের সংকোচন পরিস্থিতি সমাপ্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশিত পিএমআই ফলাফলগুলো মূলত চীনের ইতিবাচক অগ্রগতির কথাই বলছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে চীন প্রারম্ভিক বাধাগুলো ক্রমেই কাটিয়ে উঠছে। মহামারী নিয়ন্ত্রণের জন্য জারি করা বিধিনিষেধগুলো অনেকটা হঠাৎ করেই তুলে নেয় চীন সরকার। ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও তা অর্থনীতির জন্য তুলনামূলক ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া সপ্তাহব্যাপী চীনা নববর্ষের ছুটি দ্রুত ও পূর্ণ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

তিন বছরের মধ্যে এবারই কোনো ধরনের লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা ছাড়া নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে চীনের বাসিন্দারা। যদিও সরকার আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর ডিসেম্বরের শুরুতে ভাইরাসটি দ্রুত গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভাইরাসের সঙ্গে বসবাস আয়ত্ত করতে শুরু করেছে চীনের মানুষ। 

৩৩ বছর বয়সী রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপক ঝাং রয়টার্সকে বলেন, ‘নববর্ষের ছুটিতে আমাদের রেস্তোরাঁর বেশির ভাগ খাবারই বিক্রি হয়ে গেছে, কারণ আমরা এত বেশি গ্রাহক আশা করিনি। নববর্ষ উপলক্ষে ছুটির দিনগুলোতে আমরা দিনে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০টি সিগনেচার ডিশ বিক্রি করতে পারি।’

দীর্ঘ সময় শহরবন্দি বা ঘরবন্দি থাকার পর বাড়ির বাইরে বেরিয়েছে চীনের বাসিন্দরা। বেশির ভাগই নববর্ষের ছুটি কাটাতে গিয়েছে অন্য শহরে বা অন্য প্রদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে। ভ্রমণেও বেড়িয়েছে অনেকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এ-সংক্রান্ত পরিষেবা খাতে পুনরুদ্ধার দ্রুত হয়েছে। কাইশিন ইনসাইট গ্রুপের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ওয়াং ঝে রয়টার্সকে বলেন, ‘কভিড সংক্রমণের সর্বশেষ তরঙ্গ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার পর, প্রথম যেদিকে মনোযোগ দেয়া উচিত তা হচ্ছে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পুনরুদ্ধার, স্বাভাবিক উৎপাদন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা।’