যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীর হতে শুরু করেছে। অক্টোবরে ভোক্তা মূল্য সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে মূল্যস্ফীতির এ হার গত জুনে ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন পরিবারগুলো হাজার হাজার ডলার আয় হারাচ্ছে। মার্কিন থিংক ট্যাংক হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের হিসাব অনুসারে, উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে বার্ষিক ৭ হাজার ৪০০ ডলার আয় হারাচ্ছে কর্মরত পরিবারগুলো।

অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বাজারে অস্থিরতার মধ্যে থাকা খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি বছরওয়ারি ৬ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যেখানে মাসভিত্তিক হিসেবে কোর মূল্যস্ফীতির হার ছিল দশমিক ৩ শতাংশ।

মোট আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করার পর পরিবার বা ব্যক্তির প্রকৃত আয় হিসাব করা হয়। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে মার্কিন নাগরিকদের ঘণ্টাপ্রতি প্রকৃত আয় টানা ১৯ মাস ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) অনুসারে, গত মাসে ঘণ্টাপ্রতি প্রকৃত আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। সাপ্তাহিক গড় প্রকৃত আয়ে পতনের এ হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের তথ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের আঞ্চলিক অর্থনীতির গবেষণা ফেলো ইজে আন্তোনি বলেন, উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারগুলো বছরে ৬ হাজার ১০০ ডলার আয় হারাচ্ছে। পাশাপাশি উচ্চ সুদহারের কারণে পরিবারগুলোকে বছরে আরো প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে তাদের ৭ হাজার ৪০০ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে।

অক্টোবরে মুদি খরচ ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। যখন ডিম ৪৩ শতাংশ, কফি ১৪ দশমিক ৮, চাল ১৪ দশমিক ৮, রুটি ১৪ দশমিক ৮, দুধ ১৪ দশমিক ৫ এবং ফল ও সবজির দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া শিশুদের খাবারের ব্যয়ও এক বছর আগের তুলনায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।

মাসভিত্তিক জ্বালানির দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত মাসে সেপ্টেম্বরের তুলনায় গ্যাসোলিনের দাম ৪ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, দেশজুড়ে গ্যাস ও ডিজেলের গড় দাম যথাক্রমে ৩ ডলার ৮০ সেন্ট এবং ৫ ডলার ৩৬ সেন্টে উন্নীত হয়েছে।