খেলাধুলা ও বিনোদনকেন্দ্রিক মেগা প্রকল্প কিদ্দিয়া সিটিতে ১০ বিলিয়ন রিয়াল বা ২৭০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে সৌদি আরব। দেশটির ভিশন ২০৩০-এর আওতায় অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণের লক্ষ্যে এ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

কিদ্দিয়া কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, রাজধানী রিয়াদের উপকণ্ঠে অবস্থিত ৩৬০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে কিদ্দিয়া সিটি। যেখানে নির্মাণ করা হবে ৬০ হাজার ভবন। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ছয় লাখ বাসিন্দা বসবাস করতে পারবে। শহরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যা সৌদি আরবের জিডিপিতে ৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার যোগ করবে। এছাড়া প্রকল্পটি প্রতি বছর প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ দর্শনার্থীকে স্বাগত জানাতে পারবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, কিদ্দিয়া সিটিতে একটি গেমিং ও ই-স্পোর্টস বিভাগ অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যেটি বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই সঙ্গে একটি স্পিড পার্ক, একটি গলফ কোর্স, একটি বহুমুখী স্টেডিয়াম, একটি ওয়াটার থিম পার্ক ও একটি সিক্স ফ্ল্যাগ কিদ্দিয়া থাকবে। এর মধ্যে কিছু কিছু আগামী মাসে চালু করা হবে।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান কিদ্দিয়া ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌বিনোদন, খেলাধুলা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম গন্তব্য হয়ে উঠবে কিদ্দিয়া। এটি অর্থনীতিতে অবদান রাখবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে। এ প্রকল্প জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে এবং রিয়াদকে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০টি অর্থনীতির মধ্যে একটিতে নিয়ে যাবে।’

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব। তেলনির্ভরতা কাটিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নে কাজ করছেন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ভিশন পূরণে আবাসন, বিনোদন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে সৌদি সরকার। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতেও উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ প্রশাসন।

এছাড়া এ কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প শুরু করেছে দেশটির সরকার। যার মধ্যে কিদ্দিয়া প্রকল্প অন্যতম। এছাড়া লোহিত সাগর প্রকল্প ও দিরিয়াহ গেট হেরিটেজ উন্নয়নে নিওম নামে অত্যাধুনিক শহর গড়তে চায় রিয়াদ, যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ হাজার কোটি ডলার।

গত অক্টোবরে কনসালটেন্সি পিডব্লিউসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়নের মাঝপথে অনেক অর্থনৈতিক লক্ষ্যের বিপরীতে শক্তিশালী কর্মক্ষমতা অর্জন করা হয়েছে। সৌদি আরবের মেগা প্রকল্পগুলো গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। 

সম্প্রতি দেশটির অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল জাদানের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৩০ মিশনের অংশ হিসেবে চালু করা কিছু প্রকল্প সক্ষমতা তৈরি করতে এবং বিশাল মূল্যস্ফীতির চাপ ও সরবরাহের বাধা এড়াতে বিলম্বিত হচ্ছে। রাজধানী রিয়াদে এক আলোচনায় আল জাদান বলেন, ‘‌কারখানা তৈরি ও পর্যাপ্ত মানবসম্পদ তৈরি করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন।’