কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন বহুজাতিক ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি। আগামী সপ্তাহেই ব্যাংকটির বিশ্বের বিভিন্ন শাখায় নতুন করে ছাঁটাই কার্যক্রম শুরু হবে। কারণ হিসেবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে চুক্তিভিত্তিক ব্যবসায় মন্দার কথা বলা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

এরই মধ্যে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সম্ভাব্য কর্মীদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যেসব কর্মীকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করা হচ্ছে, তাদের নামই তালিকায় তুলছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। একটি সূত্রের তথ্য বলছে, মূলত চীন সম্পর্কিত ব্যবসাগুলোর সঙ্গে জড়িত কর্মীরাই এ তালিকায় থাকছেন। আবার হংকং ও চীনের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মীর নামও তালিকায় উঠেছে। তবে সবচেয়ে বেশি কর্মী ছাঁটাই করা হবে চীনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো থেকে।

একটি সূত্র জানিয়েছে, এ ছাঁটাইয়ের ফলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৩০টির বেশি প্রযুক্তি বিনিয়োগ ব্যাংকিং টিম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রতি বছর স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলে যে পরিমাণ কর্মী চাকরি ছেড়ে দেন, ছাঁটাইয়ে তার চেয়ে বেশি কর্মী চাকরি হারাবেন। যদিও কী পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই করা হবে সে সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। কেবল এ অঞ্চলেই নয়, একই সময়ে বিশ্বের সব অফিস থেকেই কর্মী ছাঁটাই করা হবে।

যদিও আরেকটি সূত্রের দাবি, ছাঁটাই যে করা হবেই, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এমনকি কতজন কর্মীকে কোন উপায়ে চাকরিচ্যুত করা হবে সে সম্পর্কে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মরগান স্ট্যানলির কর্মী সংখ্যা এ মুহূর্তে ৮১ হাজার ৫৬৭ জন। যদিও ছাঁটাই সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি। মরগান স্ট্যানলির শেষ মাসের হিসাব অনুযায়ী, তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে ৩০ শতাংশ। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ ব্যাংকগুলো মন্দার মুখে পড়েছে। ফলে এটা স্বাভাবিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো খরচ বাঁচাতে কিছু না কিছু পদক্ষেপ তো অবশ্যই নেবে।

কেবল মরগান স্ট্যানলিই নয়, গোল্ডম্যান স্যাকস, ডয়েচে ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। গত সেপ্টেম্বরেই গোল্ডম্যান স্যাকস ছাঁটাই করেছে। এটি প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। যদিও মহামারীর কারণে দুই বছর ছাঁটাই বন্ধ ছিল। গত মাসে ডয়চে ব্যাংকও কিছু কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছে। মূলত বিনিয়োগ ব্যাংকিং ইউনিট থেকে এসব কর্মী ছাঁটাই করা হয়।

কেবল আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়, মন্দার শঙ্কা, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থাসহ নানা কারণে বিপর্যস্ত বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। সংকট মোকাবেলায় প্রত্যেককেই নিজের মতো করে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। কেউ কর্মী কমিয়ে, কেউ অফিসের সংখ্যা কমিয়ে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে।