২০২৩-২৪ মৌসুমে চীনে ভুট্টা উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও বেশি জমিতে আবাদ হওয়ায় উৎপাদন নিয়ে আশাবাদী খাতসংশ্লিষ্টরা। ২০২২-২৩ মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ২৮ কোটি ৮৮ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার প্রাক্কলন করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগে ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস (এফএএস)। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম।
এফএএস জানায়, পশুখাদ্য উৎপাদন ও গৃহস্থালিগুলোয় ভোগের ক্ষেত্রে ২২ কোটি ৩০ লাখ টন ভুট্টা ব্যবহার হতে পারে। স্থানীয় বাজারে এখন শস্যটির দাম কম। আমদানিও করা হচ্ছে তুলনামূলক কম দামেই। ফলে পশুখাদ্য উৎপাদনে এর ব্যবহার আগের চেয়ে বেড়েছে।
এদিকে শিল্প খাতে শস্যটির ব্যবহার পূর্বাভাস সংশোধন করে বাড়িয়েছে এফএএস। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ব্যবহার বাড়তে পারে ১০ লাখ টন। ভুট্টাভিত্তিক ইথানল উৎপাদন অনেক বেশি লাভজনক হয়ে পড়ায় চাহিদা বাড়ছে।
গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) ভুট্টাভিত্তিক শ্বেতসার উৎপাদন কারখানাগুলো গড়ে ৫৮ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে, যা তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।
এফএএস জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে খাদ্য ও শিল্পখাতের ইথানল উৎপাদন কারখানাগুলোও আগের দুই বছরের তুলনায় উচ্চ মাত্রার সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
এবার দেশটির ভুট্টা আমদানির প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ কোটি টন, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ৩০ লাখ টন কম। স্থানীয় বাজারে শস্যটির দাম অনেক কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না কৃষকরা। তাদের গুনতে হচ্ছে বড় অংকের লোকসান। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শস্যটি আমদানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্ববাজারে চলতি বছর ভুট্টার সরবরাহ চাহিদাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। আগের বছরের মজুদ বিপুল পরিমাণে থেকে যাওয়ায় এবার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কম। এর প্রভাবে বছরজুড়ে খাদ্যশস্যটি নিম্নমুখী চাপে থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভুট্টার দাম এরই মধ্যে তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।
এফএএস আরো জানায়, ২০২৩-২৪ মৌসুমে চীনে ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে। আগের মৌসুমের তুলনায় উৎপাদন দশমিক ৮ শতাংশ বা ১১ লাখ টন কমতে পারে। এর প্রধান কারণ অতিবৃষ্টি। গত বছরের শেষ প্রান্তিকে দেশটি রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা আমদানি করে। এ বছর আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ২৫ লাখ টনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি করা হতে পারে অস্ট্রেলিয়া থেকে। এছাড়া কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গম আসবে।










