প্রথম প্রান্তিকের বাণিজ্যে প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়েছে নেসলে। বিশ্বের বৃহত্তম প্যাকেটজাত ফুড কোম্পানিটির সম্প্রতি প্রকাশিত প্রথম প্রান্তিকের বিক্রয় প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, কম বিক্রির ক্ষতি লাঘবের জন্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করেছিল নেসলে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি বছরের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। খবর রয়টার্স।

নেসলের জনপ্রিয় পণ্যের মধ্যে রয়েছে কিটক্যাট চকোলেট বার, নেসক্যাফে কফি ও ম্যাগি স্টক কিউব। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত তথ্য বলছে, ৩১ মার্চ শেষ হওয়া প্রথম প্রান্তিকে নেসলের বিক্রি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৩৫০ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা ২ হাজার ৬৪৮ কোটি ডলারে পৌঁছে।

প্রতিবেদন বলছে, পোষা প্রাণীর খাদ্য পুরিনার দাম ৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বিক্রয় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে মিষ্টিজাতীয় খাবার ও পোষা প্রাণীর খাদ্য বিক্রয় বেশ ভালো পর্যায়ে ছিল। উভয় বিভাগেই এ সময় বিক্রি বেড়েছে।

নেসলের শেয়ার সম্প্রতি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে বছরের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বার্নস্টাইনসহ বিভিন্ন বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা নেসলের এ ফলাফলকে বছরের শক্তিশালী সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। নেসলের বিনিয়োগকারী এভিভার ফান্ড ম্যানেজার রিচার্ড সালদানহা বলেন, ‘নেসলের এখন পর্যন্ত খুব শক্তিশালী ফলাফল দেখেছি। যেমনটা সম্প্রতি পিঅ্যান্ডজি ও কোকা-কোলার ছিল। ‘বছরের শুরুতে উদ্বেগ ছিল দাম বাড়ায় পণ্যের বিক্রিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমনটা হয়নি বলে মনে হচ্ছে।’

ইউনিলিভার থেকে পিঅ্যান্ডজি পর্যন্ত ভোক্তা পণ্য কোম্পানিগুলো পণ্য ও সাপ্লাই চেইনের খরচ মোকাবেলার জন্য গত দুই বছরে দাম তীব্রভাবে বাড়িয়েছে। কভিড-১৯ মহামারী ও রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের কারণে বিশ্ববাণিজ্যকে প্রভাবিত করেছে। এ সময় বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ উভয় খরচই আকাশচুম্বী হয়। 

কিছু ক্রেতা, বিশেষ করে ইউরোপের ক্রেতারা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বীকার করেছে। উচ্চমূল্যস্ফীতির ফলে অঞ্চলটির বিক্রির পরিমাণ কমতে বাধ্য করেছে। কেননা এ সময়ে লোকেরা কেনাকাটা কমিয়েছে বা সস্তা ব্র্যান্ডের পণ্য কিনেছে। তবু অনেক ভোক্তা কোম্পানি এখনো স্থিতিস্থাপক চাহিদা দেখছে, বিশেষ করে মার্কিন ক্রেতাদের কাছ থেকে।