একদিকে চলমান লকডাউনের কারণে সরবরাহ সংকুচিত হয়ে আসা, অন্যদিকে আফ্রিকার দেশগুলোয় বাড়তি চাহিদা—এ দুইয়ের প্রভাব পড়েছে ভারতে চালের রফতানি বাজারে। বাড়তে শুরু করেছে খাদ্যপণ্যটির রফতানিমূল্য। এ ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতের বাজারে চালের রফতানিমূল্য বেড়ে নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে। সরবরাহের বিপরীতে চাহিদা বাড়তি থাকলে আগামীতেও দেশটির বাজারে চালের রফতানিমূল্য চাঙ্গা থাকতে পারে বলে জানান খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস লাইন ও বিজনেস রেকর্ডার।

সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৩৭৮-৩৮৩ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহেও খাদ্যপণ্যটি টনপ্রতি ৩৭৪-৩৭৯ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির রফতানিমূল্য টনে ৪ ডলার বেড়েছে। গত বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহের পর এবারই ভারতের বাজারে চালের রফতানিমূল্য সর্বোচ্চে উঠেছে।

দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যবসায়ীরা জানান, চালের রফতানি চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষত আফ্রিকার দেশগুলো ভারত থেকে বেশি বেশি চাল আমদানি করতে চাইছে। এ কারণে অনেক রফতানিকারক নতুন চুক্তি সই করেছেন। ফলে বাজারে খাদ্যপণ্যটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। তবে চুক্তি অনুযায়ী চাল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। নভেল করোনাভাইরাসের লকডাউনের কারণে পরিবহন ও শ্রমিক সংকটের জের ধরে চাল সরবরাহ ও রফতানিতে বিঘ্ন ঘটছে। এ পরিস্থিতিও চালের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।

অনেকটা একই চিত্র দেখা গেছে থাইল্যান্ডের বাজারেও। ভারতের পর বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ এ চাল রফতানিকারক দেশে খাদ্যপণ্যটির রফতানি চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। রফতানিকারকরা নতুন নতুন চুক্তি সই করছেন। তবে দেশজুড়ে চলমান খরা পরিস্থিতি চাল রফতানিতে লাগাম টেনে ধরেছে। এ পরিস্থিতি থাইল্যান্ডেও চালের রফতানিমূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

সর্বশেষ সপ্তাহে থাইল্যান্ডের বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৫৩৫-৫৫৭ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহেও খাদ্যপণ্যটি টনপ্রতি ৫৩০-৫৫৬ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির রফতানিমূল্য টনে সর্বোচ্চ ৫ ডলার বেড়েছে।