চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য হয়েছে ৯ দশমিক ৮৯ ট্রিলিয়ন ইউয়ান বা ১ দশমিক ৪৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। চীনের শুল্ক বিভাগের উপাত্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স ও চায়না ডেইলি।
জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে চীনের রফতানি বছরওয়ারি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ দশমিক ৬৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমদানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ান।
বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য ১ দশমিক ৫৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান স্পর্শ করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য হয়েছে যথাক্রমে ১ দশমিক ৩৪ ট্রিলিয়ন, ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন, ৫৪ হাজার ৬৪১ কোটি ও ৫২ হাজার ৮৪৬ কোটি ইউয়ান।
বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা বিআরআইয়ের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে গত প্রান্তিকে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্য ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৩৪ দশমিক ৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এ দেশগুলোর সঙ্গে।
চীনের নয়া প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, উন্নত অর্থনীতি ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা সব ধরনের চেষ্টা চালাব। গত বছর প্রায় অর্ধ শতাব্দির সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির পর ২০২৩ সালে ঘুরে দাঁড়াতে চায় চীন। চলতি বছরে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতিটি। ২০২২ সালে যেখানে দেশটির প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল ৩ শতাংশ।
১৯৭৬ সালে মাও সে তুংয়ের মৃত্যুর বছরে ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ২০২২ সালে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি দেখল চীন। ২০১৯ সালে চীনের উহান শহরে করোনার প্রাদুর্ভাবের পর করোনা বিপর্যয়ের ২০২০ সালের উপাত্ত বাদ দেয়া হয়েছে।
২০২২ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা করেছিল বেইজিং। কিন্তু সরকারের জিরো কভিড নীতি, শিল্পোৎপাদন খাতে শ্লথগতি ও ভোক্তা ব্যয় হ্রাসের ফলে অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে আসে। গত বছরের প্রথমার্ধে অর্থনীতিতে গতিশীলতা থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ধুঁকেছে চীনের অর্থনীতি। অভ্যন্তরীণ করোনা পরিস্থিতির পাশাপাশি মাথাব্যথার কারণ হিসেবে ছিল ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও তার ফলে সৃষ্ট সরবরাহ চেইনসংকট।










