রোমানিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ভয়াবহ খরা পরিস্থিতি কাটতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক ঘন ঘন বৃষ্টিপাতে দেশটির মাটির আর্দ্রতা বাড়ছে। ফলে ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে শস্য উৎপাদন ২৮ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের কারণে রোমানিয়ার কৃষকরা বসন্তকালীন আবাদ উপযুক্ত সময়ে শুরু করতে পারেননি। তবে বিলম্বিত আবাদের কারণে উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে উৎপাদন বড় পরিসরে বাড়বে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। এতে চলতি মৌসুমে দেশটির শস্য রফতানিতেও প্রবৃদ্ধি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউএসডিএর পূর্বাভাস বলছে, ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে রোমানিয়ার শস্য উৎপাদন গত    মৌসুমের তুলনায় ২৮ শতাংশ বাড়বে। উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ২৪ লাখ টনে। আগের মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৯০ লাখ টন শস্য।

রোমানিয়ার প্রধান শস্যগুলোর মধ্যে গম উৎপাদন ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে আগের মৌসুমের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেড়ে ৯১ লাখ টনে পৌঁছবে। এ সময় গম রফতানির পরিমাণ ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৬০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে বলে জানায় ইউএসডিএ। আগের মৌসুমে দেশটি ৪০ লাখ টন গম রফতানি করেছিল, যা গত আট বছরের রেকর্ড সর্বনিম্ন।

এদিকে গমের পাশাপাশি ভুট্টা উৎপাদনেও বড় সাফল্য আসতে পারে। ২০২১-২২ বিপণন মৌসুমে দেশটির ভুট্টা উৎপাদন ২৫ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছবে। খাদ্যশস্যটির রফতানি আগামী বিপণন মৌসুমে ৩১ শতাংশ বেড়ে ৫৭ লাখ টনে পৌঁছবে।

অন্যদিকে দেশটির কোথাও শুষ্ক এবং কোথাও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করায় এবার যব আবাদের পরিমাণ কমে গেছে। এক্ষেত্রে যব আবাদি জমিগুলোতে কৃষকরা গম আবাদের পরিমাণ বাড়িয়েছেন। তবে আবাদ কমলেও ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমে যব উৎপাদন বাড়বে বলে জানিয়েছে ইউএসডিএ। পূর্বাভাস অনুযায়ী, শস্যটির উৎপাদন ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত হবে। আগের মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ টন। প্রাক্কলন অনুযায়ী আগামী মৌসুমে যব রফতানি ৪ শতাংশ বেড়ে ১৩ লাখ টনে দাঁড়াবে।