চলতি মৌসুমে বৈশ্বিক চিনি উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ১৮ কোটি ১০ লাখ টনে। ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন কমায় সার্বিক উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ভারত, রাশিয়া ও থাইল্যান্ডের চিনি উৎপাদন বৃদ্ধিতে বাজারে বড় কোনো ধাক্কা লাগেনি। খবর ক্যাপিটাল ডটকম। 

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রীষ্মকালে খরা ও শীতে তুষারপাতের কারণে ব্রাজিলে চিনি উৎপাদন ৬১ লাখ টন কমে ৩ কোটি ৬০ লাখ টনে দাঁড়াচ্ছে।

ইউএসডিএ বলছে, প্রধান উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ব্রাজিলের উৎপাদন কমায় বৈশ্বিক চিনির জোগান ও দামে প্রভাব পড়েছে।

অর্থনৈতিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং ইকোনমিকসের বরাতে জানা গেছে, সরবরাহ-জোগানে ঘাটতি এবং নেতিবাচক পূর্বাভাসকে সামনে রেখে গত বুধবার অপরিশোধিত চিনির দাম পাউন্ডপ্রতি ২০ দশমিক ২ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস, চলতি মৌসুমে ভারতের চিনি উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ কোটি ৪৭ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে ইইউর চিনি উৎপাদন ১২ লাখ টন বেড়ে দাঁড়াবে ১ কোটি ৬৬ লাখ টন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে থাইল্যান্ডে আখের উচ্চ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটির চিনির উৎপাদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে দাঁড়াতে পারে এক কোটি টনে।

বিশ্বের অপর শীর্ষ চিনি উৎপাদক দেশ রাশিয়ারও চিনি উৎপাদন বাড়বে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস, চলতি মৌসুমে রাশিয়ার চিনি উৎপাদন হবে ৬১ লাখ টন। গত মৌসুমে যেখানে উৎপাদন হয়েছিল ৫৬ লাখ ২০ হাজার টন।

উৎপাদনের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বাজারে চিনির ব্যবহার বাড়বে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ ভোক্তা রাষ্ট্র হতে যাচ্ছে চীন, ভারত ও রাশিয়া। ইউএসডিএর পূর্বাভাস, চলতি মৌসুমে বৈশ্বিক চিনি ব্যবহার দাঁড়াবে ১৭ কোটি ৪৪ লাখ টন। আগের মৌসুমে যা ছিল ১৭ কোটি ১১ লাখ টন।

এদিকে চলতি মৌসুমে বৈশ্বিক চিনির ইনভেন্টেরি কিছুটা কমে দাঁড়াতে পারে ৪ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টনে। গত মৌসুমে যা ছিল ৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টন। মূলত চীন, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মজুদ কমায় ইনভেন্টেরিতে প্রভাব পড়ছে।