সরকারি সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্টের (ই-জিপি) মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ সব সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার জন্য বাধ্যতামূলক বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শোহেলের রহমান চৌধুরী। সম্প্রতি রাজধানীর বিপিপিএ কনফারেন্স কক্ষে ডাইম্যাপ প্রকল্পের আওতায় বিপিপিএর যোগাযোগ ও প্রচার বিষয়ক সভায় এ কথা বলেন বিপিপিএর সিইও।

তিনি বলেন, দেশে সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৬০০। ই-জিপির সিস্টেমে ৪ মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধিত ক্রয়কারী সংস্থার সংখ্যা ১ হাজার ৪৫৬। বাকি সংস্থাগুলো যাতে দ্রুত ই-জিপি সিস্টেমে যুক্ত হয় সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিপিপিএ। যা পূর্বতন সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিইউ) হিসেবে সমধিক পরিচিত।

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), আইন ২০২৩ এর আওতায় ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সিপিটিইউ বিপিপিএ তে রূপান্তরিত হয়েছে। বিপিপিএর সিইও বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী ই-জিপি’র মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়াকরণ সব সরকারি ক্রয়কারী সংস্থার জন্য বাধ্যতামূলক।

যে সব সংস্থা এখনও ই-জিপিতে নিবন্ধন করেনি তাদের দ্রুত এ সিস্টেমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি বাস্তবায়ণের সুফল ক্রয়কারী ও দরদাতাসহ সব অংশীজনই লাভ করছে। সরকারি ক্রয়ের ডিজিটাইজেশনের ফলে দরপত্র জমাদান ও প্রক্রিয়াকরণের সব ঝুট ঝামেলার অবসান হয়েছে। সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বেড়েছে।

যে সংস্থাগুলো এখনও ই-জিপিতে যুক্ত হয় নাই বিপিপিএ ইতোমধ্যে তাদের চিঠি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মো. শোহেলের রহমান। তিনি বলেন, বিপিপিএ ওয়েবসাইটেও এ সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন এবং সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ই-জিপি’র পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।

২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভা বৈঠকের ১২৪ নং সিদ্ধান্ত মোতাবেক সরকারি ক্রয়ে সব মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/ অধীন অফিসসমূহের ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি অনুসরণ করা আবশ্যক।২০১৫ সালের ৬ আগস্ট ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্ক ফোর্স’ -এর সভায় সরকারি ক্রয়ে সকল মন্ত্রণালয়/ বিভাগ/ অধীন অফিসসমূহের ই-টেন্ডারিং পদ্ধতি অনুসরণ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৭ নভেম্বর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত ৪.৪ অনুযায়ী সব ক্রয়কারী সংস্থার ই-জিপিতে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক।

এ পরিস্থিতিতে সব ক্রয়কারী সংস্থাকে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। সহযোগিতার জন্য ই-জিপি হেল্পডেস্ক ১৬৫৭৫-এ কল করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ই-জিপি সিস্টেমটি এনআইডি, iBAS++ ও  আইএমইডি’র ইলেকট্রনিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা তথ্য সিস্টেম (ই-পিএমআইএস)-এর সংগে সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন কিছু ফিচার ই-জিপিতে যুক্ত করা হয়েছে।

এগুলো হচ্ছে ইলেকট্রনিক চুক্তি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (ই-সিএমএস), আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র (আইসিটি), ই-অডিট মডিউল, অটোমেটেড চালান (এ-চালান), সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এবং পেশাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক সেবা।

২০১১ সালের ২ জুন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-জিপি পোর্টাল উদ্বোধন করেন। ২০১২ থেকে চলতি বছরের ৪ মার্চ পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৯৭টি দরপত্র ই-জিপি’র মাধ্যমে আহ্বান করা হয়েছে যার মোট মূল্য ৮ লাখ ২২ হাজার ৫৯৮কোটি টাকা। এ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি দরদাতা ই-জিপি সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে। সরকারি ক্রয়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক বিপিপিএকে সহায়তা করেছে।