দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) গত সপ্তাহে তিন-চতুর্থাংশ শেয়ারের দাম কমেছে। পাশাপাশি আলোচ্য সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটিতে সূচক ও লেনদেনও কমেছে। অন্যদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমলেও লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্টক এক্সচেঞ্জের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৬ হাজার ৩৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৬ হাজার ৩৭৩ পয়েন্টে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ২ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস দশমিক ৩৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৮২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৩৮৭ পয়েন্টে। ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪০৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৩টির, কমেছে ৩০৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১১টির।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ৭ হাজার ৪৪০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে লেনদেন ছিল ৮ হাজার ৪৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক্সচেঞ্জটিতে সাপ্তাহিক লেনদেন কমেছে ১২ দশমিক ২১ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যেখানে আগের সপ্তাহে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল ১ হাজার ৬৯৫ কোটি ৪ লাখ টাকা।
গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে এ মূলধন ছিল ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে দশমিক ৭৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৮ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়েছে প্রকৌশল খাত। ১১ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ৪ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। আর খাদ্য খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৬ দশমিক ৭ শতাংশ।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে চারটি বাদে সব খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ইতিবাচক রিটার্নের দিক থেকে শীর্ষে ছিল ভ্রমণ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিবিধ ও ব্যাংক খাত। এ চার খাতে যথাক্রমে ১১ দশমিক ২ শতাংশ, ১ দশমিক ১ শতাংশ, দশমিক ৮ শতাংশ ও দশমিক ৭ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল পাট, প্রকৌশল, কাগজ ও বস্ত্র খাত। খাতগুলোয় যথাক্রমে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, ৫ দশমিক ১ শতাংশ ও ৪ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
অন্যদিকে গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কমে ১৮ হাজার ২৯১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৮ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক শূন্য ১ শতাংশ কমে ১০ হাজার ৯৫০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের সপ্তাহ শেষে সূচকটির অবস্থান ছিল ১০ হাজার ৯৫১ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ১৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১২৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এ সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০১টির, কমেছে ২২৫টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।










