সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের শুরুতে মসলাপণ্য জিরা আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ কম আমদানি হয়েছে পণ্যটি। বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারতে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক হারে দাম বেড়ে যাওয়ায় জিরা আমদানি কমেছে।
অন্যদিকে আমদানি কমে যাওয়ায় সম্প্রতি দেশীয় বাজারে জিরার দাম বেড়েছে ব্যাপক হারে। এক-দেড় মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি জিরার দাম অন্তত ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাইয়ে এ বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি হয়েছে ৮৭ টন। যার আমদানি মূল্য ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় অর্থাৎ জুলাইয়ে এ বন্দরে জিরা আমদানি হয়েছিল ১৩৭ টন। যার আমদানি মূল্য ছিল ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে এ বন্দর দিয়ে জিরা আমদানি কমেছে অন্তত ৪০ শতাংশ।
ভোমরা বন্দরের মসলাপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে ভারতে সম্প্রতি জিরার দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। এতে পণ্যটির আমদানিও কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘গত অর্থবছরের এ সময় সপ্তাহে ১৫-১৬ ট্রাক জিরা আমদানি হয়েছে তার প্রতিষ্ঠানে। সেখানে চলতি অর্থবছরের শুরুতে সপ্তাহে তিন-চার ট্রাক জিরা আমদানি হচ্ছে। দেশীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও বেড়েছে।’
সাতক্ষীরা জেলা শহরের সুলতানপুর বড় বাজারের পাইকারি মসলা বিপণন প্রতিষ্ঠান মেসার্স মসলা ভাণ্ডারের পরিচালক আবুল কাসেম জানান, সব ধরনের মসলাপণ্যের দাম বেড়েছে। এক-দেড় মাসের ব্যবধানে আমদানীকৃত জিরার কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। চলতি বছরের জুলাইয়ে যে জিরা পাইকারি বিক্রি হয়েছে ৯৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। ফলে দেড় মাসের ব্যবধানে কেজিতে ২৫০ টাকা দাম বেড়েছে জিরা।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাস্টমসের সিনিয়র রাজস্ব কর্মকর্তা মো. ইফতেখার উদ্দিন জানান, সম্প্রতি জিরা আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণের পরিমাণও কমেছে।










