গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ৯৯৭তম কমিশন সভায় প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ বাতিল করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, ফান্ডগুলোর ট্রাস্ট্রি বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি (বিজিআইসি) ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএসইসি থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পেয়েছে। চিঠিতে ছয়টি ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিলের কথা জানানো হয়েছে। ফান্ডগুলো হলো গ্রীন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ও ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয়টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক হিসেবে এলআর গ্লোবাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে অপসারণ করা হয়েছে। তবে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়ার পর থেকে গতকাল স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে বিষয়টি প্রকাশের আগ পর্যন্ত বিষয়টি গোপন রেখেছে বিএসইসি। অতীতে কমিশন সভায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সেদিনই তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতো। যদিও এলআর গ্লোবাল-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কমিশন সভার পর তা প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনাধীন মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও বিএসইসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

কমিশন সভার সিদ্ধান্ত প্রকাশ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসি পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌কৌশলগত কারণে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি।’

এর আগে বিএসইসির ৯৭৮তম কমিশন সভায় ফান্ডগুলোর সম্পদ ব্যবস্থাপক থেকে এলআর গ্লোবালের নিয়োগ বাতিলের প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করে নিট দায় (এনএভি) ও পুঞ্জীভূত লোকসানে থাকা দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

এ অনিয়মের ঘটনায় ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে, তারা হলেন এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশে প্রধান নির্বাহী রিয়াজ ইসলাম, রেজাউর রহমান সোহাগ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আহসান, মদিনা আলী, সৈয়দ কামরুল হুদা, ওমর শোয়েব চৌধুরী ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)। এর মধ্যে বিজিআইসিকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। আর ছয় ব্যক্তিকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়। ১ কোটির বাইরে রেজাউর রহমান সোহাগকে আরো ১০ লাখ ও শরীফ আহসানকে আরো ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।