রাশিয়া বর্তমানে বছরে যে পরিমাণ তেল উৎপাদন করছে তাতে দেশটির মজুদকৃত তেলে ২০৮০ সাল পর্যন্ত চলবে। রাশিয়ার প্রাকৃতিক সম্পদবিষয়ক মন্ত্রী আলেকজান্ডার কসলভ চলতি সপ্তাহে দেশটির সংবাদমাধ্যম আরবিসিতে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ তথ্য জানান। খবর অয়েলপ্রাইসডটকম।

সাক্ষাত্কারে আলেকজান্ডার কসলভ আরো বলেন, বর্তমান বার্ষিক উত্তোলন হার অনুযায়ী রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ১০৩ বছর পর্যন্ত চলবে। যেসব অঞ্চলে খনন কাজ করা দুঃসাধ্য সেসব অঞ্চলে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান বাড়িয়ে দিলে প্রাকৃতিক সম্পদ দুটির মজুদ আরো বাড়বে। তেল ও গ্যাসসমৃদ্ধ দুর্গম এলাকাগুলোতে সফলতা পাওয়ার লক্ষে অনুসন্ধান পক্রিয়া উন্নত করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় খনিজ সম্পদবিষয়ক সংস্থার প্রধান অ্যাভজেনি কিসলেভ বলেন, ৫৮ বছরের চাহিদা মেটানোর মতো জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে রাশিয়ার।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর করোনা মহামারীর ধাক্কায় রাশিয়ার জ্বালানি তেল উৎপাদন কমে যায়। তবে দেশটি এ বছর সংকট কাটিয়ে উৎপাদন কিছুটা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। আগামী বছরও উৎপাদনের পরিমাণ স্বল্প পরিসরে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

দেশটির সরকারি এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনে রেকর্ড গড়ে রাশিয়া। তবে ২০২০ সালে ওপেক প্লাসের উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বৈশ্বিক চাহিদা ও দাম কমে যাওয়ায় দেশটির উত্তোলনের পরিমাণ ৮ দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। গত মাসে রাশিয়া চলতি ও আগামী বছর দেশটির অপরিশোধিত তেল, গ্যাস ও কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে জ্বালানি তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

রাশিয়া সরকারের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর দেশটি ৫১ কোটি ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল উৎপাদন করবে। ২০২২ সালে ৫৪ কোটি ৮০ লাখ টন তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।