এপ্রিলে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয়সূচক প্রাক্কলন অতিক্রম করেছে। বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে ত্বরান্বিত হয়েছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এরপরও আগামী মাসে সুদহার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি এমনটাই ওঠে এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত খবরের তথ্যানুযায়ী এপ্রিলে আকাশপথ ব্যতীত অন্য খাতে ভোক্তা ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শ্রমবাজার, উৎপাদন খাত ও পরিবহন খাতের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ঘটেছে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। বসন্তকে সামনে রেখে গতিশীল হতে শুরু করেছে কার্যক্রম। আশা করা হচ্ছে, জুনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহারে পরিবর্তন আনবে।
ফেডের নীতিনির্ধারণী সভায় সুদহার বাড়ানোর ব্যাপারে এর মধ্যেই সমঝোতা হয়েছে। তবে তা কার্যকর করার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। এদিকে নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এফডব্লিউডিবিওএনডিএসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকির দাবি, বসন্তের শুরুতে অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে কোম্পানি ও ভোক্তারা একমত। বলতে গেলে বর্তমানে অর্থনীতি খাদ থেকে বেশ দূরে। কিন্তু ফেড কর্মকর্তারা হার বৃদ্ধি থামাতে সক্ষম নন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে, চাহিদা সূচক বাড়ছে।
ভোক্তা ব্যয় মার্কিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের দুই-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে। গত মাসে ব্যয় দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে, মার্চে যার হার ছিল দশমিক ১ শতাংশ। প্রাক্কলন ছিল দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ার। ক্রেতারা হালকা ট্রাক ও ওষুধপত্রের পেছনে বেশি ব্যয় করেছেন এ সময়ের মধ্যে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পেছনে ব্যয় বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। তার আগে টানা দুই মাস কমেছিল ব্যয়। এদিকে পরিষেবা খাতে ব্যয় বেড়েছে দশমিক ৭ শতাংশ। বীমা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন ও আবাসন পরিষেবা ছিল এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
গত মাসে ভোক্তা ব্যয় কম থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও প্রথম প্রান্তিকে ভোক্তা ব্যয় ছিল দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অধিকাংশ ব্যয় মূলত জানুয়ারিতে হয়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চের দিকে ব্যয় কমতে থাকে। দ্বিতীয় প্রান্তিক শুরু হওয়ার সময় তাই প্রাক্কলন সূচক ছিল নিম্নমুখী।
ভোক্তা ব্যয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে শ্রমবাজার। মার্চে মজুরি দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ার পর এপ্রিলে বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে ব্যক্তিগত আয় বেড়েছে দশমিক ৪ শতাংশ, মার্চে বেড়েছিল দশমিক ৩ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে অর্থনীতি বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যবসা খাত এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ব্যবসা খাতে চাহিদা বাড়ার কারণে এপ্রিলে আমদানি পণ্য বেড়েছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। আমদানি পণ্যের অধিকাংশই মোটরযান ও ভোগ্যপণ্য। কিন্তু একই সময়ে রফতানি পণ্যের পতন ঘটেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। সামাজিক খাতও কিছুটা নাজুক। কারণ নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের সঞ্চয়ের বড় অংশ ব্যয় করে ফেলেছে মহামারীর অবরুদ্ধ সময়ে। সঞ্চয়ের হার এপ্রিলে কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। এদিকে ব্যক্তিগত ব্যয় এপ্রিলে দশমিক ১ শতাংশ বাড়ার পর এপ্রিলে দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। খাবারের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও জ্বালানি ও পরিষেবা পণ্যের খরচ বেড়েছে দশমিক ৭ শতাংশ।










