যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ। দেশটির ওকলাহামা অঙ্গরাজ্যের কুসিন হাবে জ্বালানি পণ্যটির মজুদ তিন বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের চাহিদাও বর্তমানে ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যেই মজুদ বেড়েছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)।
সংস্থাটি জানায়, গত সপ্তাহে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা আগের সপ্তাহের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। এ কারণে মজুদে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেয়। চার সপ্তাহের গড় সরবরাহ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ২ কোটি ২১ লাখ ব্যারেলে। করোনা মহামারীজনিত কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছিল তা কেটেছে। বর্তমানে দেশটির অর্থনীতিতে দ্রুত প্রসার ঘটছে। এতে লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের চাহিদা।
ইআইএ জানায়, ১১ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ১১ লাখ ব্যারেল করে বেড়েছে। মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪১ কোটি ১৫ লাখ ব্যারেল। অথচ রয়টার্সের এক জরিপে ওই সপ্তাহে মজুদ থেকে ১৬ লাখ ব্যারেল কমার আশঙ্কা করা হয়েছিল।
এদিকে মোট দেশীয় মজুদ বাড়লেও ওকলাহামার কুসিনে মজুদ ১৯ লাখ ব্যারেল কমেছে। মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫৮ লাখ ব্যারেলে। এটি ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন মজুদ।
সাম্প্রতিক বছরগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কুসিন হাবের গুরুত্ব কমে গিয়েছে। কারণ উত্তোলকরা রফতানির জন্য মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলকে বর্তমানে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচারস মার্কেটের জন্য কুসিন এখনো অন্যতম সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে সর্বশেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের মজুদ ১৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল বাড়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল। এছাড়া ডিজেল ও হিটিং ফুয়েলের মজুদ ১৬ লাখ ব্যারেল কমেছে।
প্রসঙ্গত, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মূলত পণ্যটির ঊর্ধ্বমুখী দামের প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে দেশটি ব্যাপক হারে উত্তোলন বাড়াচ্ছে।
ইআইএ সম্প্রতি শর্ট-টার্ম এনার্জি আউটলুক শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র দৈনিক ১ কোটি ২৬ লাখ ব্যারেল করে জ্বালানি তেল উত্তোলনে সক্ষম হবে। বার্ষিক গড় উত্তোলনের দিক থেকে এটি হবে রেকর্ড সর্বোচ্চ।
এরই মধ্যে দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ঊর্ধ্বমুখী। ইআইএর তথ্য বলছে, গত বছরের নভেম্বরেই দেশটির উত্তোলন দৈনিক ১ কোটি ১৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছয়। বর্তমানেও এ ধারা অব্যাহত আছে।










