ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর গম রফতানি খাতে পরপর চার বছর মন্দা ভাব বজায় ছিল। এ অবস্থা বদলেছে ২০১৯ সালে এসে। গত বছর ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ৩ কোটি ২০ লাখ টন ছাড়িয়ে গেছে। নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর কারণে রফতানি খাতে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরও ইইউর গম রফতানিতে প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা চলতি বছরও বজায় থাকতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও এগ্রিমানি।
মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস সম্প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর শস্য রফতানির হালচাল নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটেনসহ ইইউভুক্ত দেশগুলোর ইতিহাসে ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশি গম রফতানি হয়েছিল। ওই বছর এসব দেশ সম্মিলিতভাবে ৩ কোটি ৫৪ লাখ ৫৫ হাজার টন গম রফতানি করেছিল। এরপর থেকে ইইউর গম রফতানিতে ধারাবাহিক মন্দা ভাব দেখা দেয়।
পরের বছর ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে গম রফতানি ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টনে নেমে আসে। পরের বছরগুলোয় ইইউর গম রফতানির সম্মিলিত পরিমাণ ৩ কোটি টনের নিচে নেমে যায়। ইউএসডিএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে এসব দেশ যথাক্রমে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার টন ও ২ কোটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার টন গম রফতানি করেছে। ২০১৬ সালে ইইউর গম রফতানি আগের বছরের তুলনায় কমেছে ২১ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৭ সালে ১৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
পরের বছর ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে কৃষিপণ্যটির সম্মিলিত রফতানি আগের বছরের তুলনায় আরো দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ২ কোটি ৩৩ লাখ ১০ হাজার টনে নেমে আসে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউএসডিএ। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, টানা চার বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে গত বছর ঘুরে দাঁড়িয়েছে ইইউর গম রফতানি। এ সময় জোটভুক্ত দেশগুলো সব মিলিয়ে ৩ কোটি ২০ লাখ টনের কিছু বেশি গম রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৭ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে চলতি বছর ৩ কোটি ২৫ লাখ টনের কাছাকাছি গম রফতানি করতে পারে এসব দেশ।










