মালয়েশিয়ায় গত বছরের নভেম্বরে প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬৬৯ টনে। দেশটির ক্ষুদ্র বাগানগুলো উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। মালয়েশিয়ার পরিসংখ্যান বিভাগ সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রধান পরিসংখ্যানবিদ দাতো সেরি মোহা. উজির মাহিদিন এক বিবৃতিতে জানান, জাতীয় উৎপাদনে ক্ষুদ্র বাগানগুলো ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ অবদান রেখেছে। ওই মাসে বড় বাগানগুলোর অবদান ছিল ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ।
এদিকে বছরের ব্যবধানে উৎপাদন বাড়লেও মাসের ব্যবধানে কমেছে। গত বছরের অক্টোবরে দেশটিতে ৩২ হাজার ৩৪৪ টন রাবার উৎপাদন হয়। সে হিসাবে নভেম্বরে উৎপাদন কমেছে ২ হাজার ২৭৪ টন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, নভেম্বরে দেশটিতে রাবারের মজুদ আগের মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। অক্টোবরে মজুদ ছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ১৯৬ টনে। নভেম্বরে তা দাঁড়ায় ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৫ টনে।
উজির মাহিদিন জানান, মোট মজুদে রাবার প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোর অবদান ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া রাবার ব্যবহারকারী কারখানাগুলোর ১০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বাগানগুলোর দশমিক ১ শতাংশ অবদান ছিল।
২০২৩ সালের নভেম্বরের মালয়েশিয়া রাবার বোর্ড ডাইজেস্ট অনুযায়ী, কুয়ালালামপুরের রাবার বাজার ওই মাসে মিশ্র প্রবণতায় ছিল।
সব মিলিয়ে বাজার পরিস্থিতি ছিল ইতিবাচক ধারায়। চীনের অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং চলতি বছরের জন্য ইতিবাচক লক্ষ্যমাত্রা এক্ষেত্রে রসদ জুগিয়েছে। অন্যদিকে শীর্ষ উৎপাদক থাইল্যান্ডে সংকুচিত সরবরাহও উৎপাদন বাড়াতে বাগান মালিকদের উৎসাহিত করেছে।
প্রাকৃতিক রাবার উৎপাদনকারী বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় মালয়েশিয়ার অবস্থান ষষ্ঠ। তবে উৎপাদিত রাবারের বেশির ভাগ রফতানি করায় শীর্ষ রফতানিকারক দেশের তালিকায় দেশটির অবস্থান চতুর্থ।
নভেম্বরে মালয়েশিয়া ৫১ হাজার ৪৩৭ টন রাবার রফতানি করেছে। অক্টেবরে রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৬ হাজার ৪৬০ টন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রফতানি কমেছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ।
দেশটির রাবারের প্রধান রফতানি গন্তব্য ছিল চীন। নভেম্বরে মোট রফতানির ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশই গেছে ওই দেশে। এছাড়া ৮ দশমিক ৯ শতাংশ জার্মানিতে, ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ইরানে, ৪ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে ও ২ দশমিক ৮ শতাংশ রফতানি করা হয়েছে পাকিস্তানে।










