বিশ্বব্যাপী চিপ শিল্পে দীর্ঘস্থায়ী মন্দার কারণে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি আয়ে প্রভাব পড়েছে। মে মাসের প্রথম ২০ দিনে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটির রফতানি কমেছে ১৬ দশমিক ১ শতাংশ। দক্ষিণ কোরিয়ার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের গতকাল প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, দেশটির বহির্গামী চালান সাত মাস ধরে কমতে শুরু করেছে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

দক্ষিণ কোরিয়ার কাস্টমস সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, ১-২০ মে দেশটি থেকে ৩ হাজার ২৪০ কোটি ডলার পরিমাণ পণ্য বহির্গামী চালান হয়েছে। যেখানে গত বছরের একই সময়ে রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কোটি ডলার। অন্যদিকে, উল্লিখিত এ সময়ে আমদানি ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৬৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফলে ৪৩০ কোটি ডলারের বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

খাত হিসাবে এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির মেরুদণ্ড চিপ রফতানি। কিন্তু এ খাতের রফতানি গত বছরের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪২৬ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

প্রতিবেদন বলছে, চিপ ছাড়াও দেশটির অন্যান্য প্রধান রফতানি পণ্যের চালানও কমেছে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের রফতানি ৩৩ শতাংশ কমে ৩০০ কোটি ডলার এবং ইস্পাত পণ্যের রফতানি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৯০ কোটি ডলারে।

অন্যদিকে, এ সময়ের মধ্যে অটোমোবাইলের চালান ৫৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৩৪৪ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। চীন দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ বাণিজ্য অংশীদার। চীনের বাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ায় ইতিবাচক প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। তবে তথ্য বলছে, চীনে দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্য রফতানি বছরওয়ারি ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭৯ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির পরিমাণ ২ শতাংশ কমে ৫৮০ কোটি ডলার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় রফতানি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭৫ কোটি ডলারে। এছাড়া ভিয়েতনাম ও জাপানে রফতানি কমেছে যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার সামগ্রিক রফতানি ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৯৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২২ সালের অক্টোবরের পর থেকে বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর কঠোর মুদ্রাসংকোচন নীতির কারণে রফতানির পরিমাণ বছরের ব্যবধানে কমতে শুরু করেছে।

গত শনিবার পর্যন্ত চলতি বছরের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৯৫০ কোটি ডলার, যা ২০২২ সালের রেকর্ড বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতির অর্ধেকেরও বেশি।