এজন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে নগদ সহায়তার হার বৃদ্ধিসহ আটটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দাবিগুলো উপস্থাপন করে। গভর্নর বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আশ্বস্ত করেছেন যে রফতানিকারকদের তারল্য সংকট নিরসনে এখন থেকে প্রতি মাসের নগদ সহায়তার অর্থ সংশ্লিষ্ট মাসেই ছাড় করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তৈরি পোশাক শিল্পের অস্তিত্ব রক্ষায় বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে যে আট দাবি জানিয়েছেন সেগুলো হলো বিশেষ নগদ সহায়তার হার দশমিক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা, শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাকের পরিবর্তে বিকল্প নগদ সহায়তার হার ১ দশমিক ৫ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের জন্য এ হার ৩ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশে উন্নীত করা।
এছাড়া শিল্পকে সহায়তাস্বরূপ প্যাকিং ক্রেডিটের (পিসি) সুদের হার ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা, রফতানি ঋণে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুপারিশ করেন। একই সঙ্গে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার কোটি টাকা করা। পাশাপাশি এ তহবিলের মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়।
বিজিএমইএ প্রতিনিধি দলটি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আওতাধীন সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ব্যাংকে আটকে থাকা স্থায়ী আমানত ও রফতানি মূল্যের অর্থ দ্রুত নগদায়নের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রণোদনার অর্থ দ্রুততম সময়ে ও নিয়মিত ছাড় করার দাবি জানান।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার কারণে পোশাক শিল্প কঠিন সময় পার করছে। অনেক ব্যাংক ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহ করা হচ্ছে না, যা উৎপাদন ও ঋণ পরিশোধ উভয়কেই বাধাগ্রস্ত করছে। তারল্য সংকটের কারণে অনেক কারখানা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।’ তারা উল্লেখ করেন, প্রণোদনার অর্থ দ্রুততম সময়ে ও নিয়মিত ছাড় করা না হলে অনেক কারখানা অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে, যা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
জবাবে নতুন গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের এখতিয়ারভুক্ত বিষয়গুলোর ওপর দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিশেষ করে নগদ সহায়তার কোনো আবেদন আর পেন্ডিং রাখা হবে না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিনিধি দলটি আশা করছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেয়া দ্রুত পদক্ষেপগুলো পোশাক শিল্পকে বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াতে এবং কর্মসংস্থান বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বিজিএমইএ সভাপতি ছাড়াও প্রতিনিধি দলটিতে ছিলেন সংগঠনের পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী এবং মাহিন অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-মাহমুদ মাহিন। সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।










