মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি ব্যাংক অব জাপান (বিওজে)। টানা ১৫তম মাস হিসেবে গত জুনেও মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের নিচে নামাতে পারেনি দেশটি। জ্বালানি ব্যয় কিছুটা কমলেও নিত্যপণ্যের মূল্য লাগাম ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। খবর রয়টার্স। 

সরকারের দুর্বল তদারকি সত্ত্বেও পরিষেবা খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার কিছুটা ধীরগতিতে। তাই নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, শ্রমমজুরিতে চাপ এখনো ততটা বাড়েনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, তথ্যটি চলতি সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপানের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাসকে বাড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে আর্থিক উদ্দীপনামূলক পদক্ষেপ নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

দাইওয়া সিকিউরিটিজের প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরু সুয়েহিরো বলেন, ‘‌অবশেষে ব্যয় বৃদ্ধির ধাক্কায় মূল্যস্ফীতি চূড়ায় উঠতে যাচ্ছে। সম্ভবত আগামী মাসগুলোয় আমরা মূল্যস্ফীতির শ্লথগতি দেখতে পাব। যদিও ২০২৪ সালে পরিষেবার দাম বাড়তে পারে। তবে পণ্যের দাম কম থাকবে। আগামী বছর মূল্যস্ফীতির হার ১ শতাংশের মতো হতে পারে। শুক্রবারের তথ্যানুযায়ী, দেশব্যাপী শাকসবজির খরচ বাদে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এক বছর আগের তুলনায় গত জুনে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা মধ্যম মানের বাজারের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে এবং গত মে মাসে ৩ দশমিক ২ শতাংশ লাভ এসেছে।

পরিষেবার বিল বৃদ্ধির ফলে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম ক্রমাগত বাড়ে, যা পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু শাকসবজি ও জ্বালানি খরচ বাদে বিওজের এক সূচক বলছে, জুনে মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে তা মে মাসের ৪ দশমিক ৩ শতাংশের চেয়ে কম। ২০২২ সালের জানুয়ারির পর এই প্রথম মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমল। কোম্পানিগুলোর পণ্যের দাম বাড়ায় গত কয়েক মাস টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল।

নীতিনির্ধারকরা বলছেন, উচ্চ শ্রম খরচের কারণেও মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা পরিষেবার দাম বাড়িয়ে তুলছে। তথ্য বলছে, এক বছর আগের তুলনায় জুনে ১ দশমিক ৬ শতাংশ শ্রমব্যয় বেড়েছে এবং মে মাসে বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ তথ্য এমন একসময় এল, যখন ২৭-২৮ জুলাই বিওজের নীতিনির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই বৈঠকে বোর্ড-পরবর্তী প্রান্তিকের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হবে। সেই সঙ্গে জাপান তার ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা টেকসইভাবে অর্জনের দিকে কতটা অগ্রগতি করছে, তা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

জাপানের রাজধানীর মূল মূল্যস্ফীতি ২৮ জুলাই বিওজের নীতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশ করা হবে। তবে রয়টার্সের এক জরিপ বলছে, সম্ভবত জুলাইয়ের মূল্যস্ফীতির হারও বেশ মন্থর হতে পারে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্যাংক অব জাপানের মূল্যস্ফীতির হার লক্ষ্যমাত্রার বাইরে ছিল। এখন বাজারগুলো জল্পনা-কল্পনা করছে, ব্যাংক অব জাপান হয়তো আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে তার বিতর্কিত নীতি প্রত্যাহার করবে।