ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির গতিতে মন্থরতা এসেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।   এক বছরের মধ্যে এপ্রিলে মূল্য বৃদ্ধির গতি ছিল সর্বনিম্ন। ফলে দীর্ঘদিন পর দেশটিতে মূল্যস্ফীতির সূচকে নিম্নমুখী ঝোঁক দেখা যাচ্ছে। এমনটাই উঠে এসেছে দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থা স্ট্যাটিস্টিক্স কোরিয়ার সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড। 

ভোগ্যপণ্যের দাম মূল্যস্ফীতির অন্যতম প্রধান মাপকাঠি। গত মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল বছরওয়ারি ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। মার্চের তুলনায় এ বৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে ১৪ মাস পর প্রথমবারের মতো বছরওয়ারি মূল্যস্ফীতির সূচক ৪-এর নিচে নেমেছে। গত বছরের মার্চে  মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৭ থেকে ৪-এর উপরে ওঠে। তখন থেকেই লাফিয়ে বাড়তে থাকে সূচক। জুলাইয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অবশ্য সেটাই ছিল সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির সীমারেখা। তার পর থেকে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। গত এপ্রিলে  ব্যাংক অব কোরিয়া দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হারে পরিবর্তন আনে মূল্যস্ফীতি মোকাবেলার জন্য। সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ বাজারে। কিন্তু এপ্রিলে  তার গতি কমতে থাকে। পেছনে অবশ্য তেলের দাম কমে যাওয়াটাও একটা বড় কারণ হিসেবে ছিল। 

প্রয়োজনীয় জ্বালানির দক্ষিণ কোরিয়া বহুলাংশেই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের দাম বছরওয়ারি ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ২০২০ সালের মে মাসের পর এটি সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পতন। এদিকে দুবাই থেকে আমদানি করা প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সর্বনিম্ন দাম ৮৩ ডলার ৪৪ সেন্ট দাঁড়িয়েছিল গত এপ্রিলে, যা বছরওয়ারি ২০ শতাংশ কম। কৃষিপণ্য, মাছ ও গৃহস্থালি পণ্যের দাম মার্চে  বছরওয়ারি ১ শতাংশ বেড়েছে। এক মাস আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩ শতাংশ। পরিষেবা খাতে এপ্রিলে বছরওয়ারি মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এক মাস আগের তুলনায় বেড়েছে ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। প্রয়োজনীয় খাদ্য ও তেল ব্যতিরেকে অন্যান্য পণ্যে মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। সেখানে মার্চে  মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। 

খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ১৪১টি পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। 

মার্চে  মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল। পরিসংখ্যান চালানো  এক প্রতিনিধি দ্য কোরিয়া হেরাল্ডকে জানিয়েছেন, গৃহীত পদক্ষেপের কারণে চলতি বছরের দ্বিতীয় ভাগে মূল্য স্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। তবে বিশ্ববাজারে তেল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অনিশ্চয়তাও বাড়তেও পারে। সেই সঙ্গে ওনের বিনিময় হারে অস্থিতিশীলতাও একটা বড় চ্যালেঞ্জ।