দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি মধ্যম মাত্রায় থাকার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। শ্রমবাজার উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে ও ভোক্তা ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি ব্যবসাগুলোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কারখানা স্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। আবাসন বাজারের সম্ভাব্য মন্দার সমাপ্তি টানার পাশাপাশি বিদ্যমান অগ্রগতিগুলো অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে।

সুদহার বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির ঠেকাতে ফেডারেল রিজার্ভের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দামের চাপ তুলনামূলক কিছুটা কমছে। ফলে কিছু অর্থনীতিবিদ বিশ্বাস করছেন, মার্কিন অর্থনীতির অস্থিতিশীল অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব। দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বার্ষিক ১ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বাড়বে 

বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা প্রথম প্রান্তিক থেকে কিছুটা কম। তবু দেশটির ভোক্তা ব্যয় মার্কিন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি। এছাড়া মহামারীর সময়ে অতিরিক্ত সঞ্চয় ও মজুরি বৃদ্ধি, নিম্ন স্তরের ছাঁটাই দ্বারাও অর্থনীতি সমর্থন পেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী উৎপাদিত পণ্যগুলোয় ব্যয় ধীর হতে পারে, তবে পরিষেবা ব্যয় স্থবিরতার জন্য ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

উড়োজাহাজ ও মোটরযানে ব্যয়ের পুনরুদ্ধারের কারণে প্রথম প্রান্তিকে ধীরগতির পরে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ গতি পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের প্রশাসনের আওতায় অভ্যন্তরীণভাবে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টা শক্তিশালী কারখানা নির্মাণে অবদান রেখেছে। এ ধরনের সরকারি ব্যয়ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইনভেন্টরি বিনিয়োগ সংশয় রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এর সম্ভাব্য অবদান সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে। প্রথম প্রান্তিকে দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার কারণে কারখানার কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

গৃহনির্মাণসহ আবাসিক বিনিয়োগ টানা নবম প্রান্তিকে সংকুচিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন বাড়ি ও গাড়ি বিক্রির মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা অর্থনীতির সম্ভাব্য মন্দা এড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ জাগিয়ে তুলেছে। ইতিবাচক সূচক সত্ত্বেও কিছু অর্থনীতিবিদ উচ্চ ঋণ ব্যয়ের কারণে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, যা মূলত ভোক্তাদের জন্য ঋণের সঙ্গে তাদের ব্যয় সমন্বয় বজায় রাখাকে কঠিন করে তুলতে পারে। ব্যাংকগুলোও ঋণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করছে, ফলে অতিরিক্ত সঞ্চয় করাও কমছে। চাকরির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ায় মজুরি লাভ কমতে পারে, যা ভোক্তা ব্যয়কে আরো বেশি প্রভাবিত করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে যদিও মার্কিন অর্থনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে অসাধারণ শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবু সামনে দিন এখনো অনিশ্চয়তা দিয়ে ভরা। ফেডারেল রিজার্ভের মাধ্যমে সুদহার বৃদ্ধির আরো আশঙ্কা এবং অন্য অর্থনৈতিক কারণগুলো আগামীতে মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত করবে। এবার যা ভিন্ন, তা হলো কেবল একটি মন্দা দেখা যাচ্ছে।