অপরিশোধিত পাম অয়েলের শীর্ষ সরবরাহকারী হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার পরিবর্তে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছে ভারত। বিশ্বের ৮৫ শতাংশ পাম অয়েলই উৎপাদন করে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। বিশ্বের বৃহৎ এ দুই পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েলে শুল্কের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ভারত এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।

সম্প্রতি সলভেন্ট এক্সট্রাক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকারক। দেশটি গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে ১ কোটি ৬৮ লাখ টন এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ টন ক্রুড পাম অয়েল ক্রয় করে।  

এক বছর আগে ইন্দোনেশিয়া পাঁচ মাসের মধ্যে ভারতে ২০ লাখ ৬০ হাজার টন অপরিশোধিত পাম অয়েল সরবরাহ করে। একই সময়ে মালয়েশিয়া সরবরাহ করে ৪ লাখ ১৪ হাজার ৮১৫ টন।

ভোজ্যতেল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান সানভিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিল কুমার ভাগানি বলেন, ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় মালয়েশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েল আমাদানিতে করের পরিমাণ কম। করের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফারাক থাকায় ভারত মালয়েশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে মালয়েশিয়া কোনো কর আরোপ করত না। এক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি শুল্ক ছিল।

অনিল কুমার ভাগানি বলেন, এপ্রিল পর্যন্ত ভারতে পৌঁছেছে ছয় লাখ থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার টন পাম অয়েল। ভারতের মোট আমদানীকৃত ভোজ্যতেলের মধ্যে ৫০-৬০ শতাংশই অপরিশোধিত পাম অয়েল।

ফেব্রুয়ারিতে অপরিশোধিত পাম অয়েলের ওপর ভারত ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এটি পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের নিজ নিজ কার্যকরী করের ব্যবধান ৮ দশমিক ২৫ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশে নিয়ে এসেছে।  

মার্চে ভারত ৫ লাখ ২৬ হাজার ৪৬৩ টন অপরিশোধিত পাম অয়েল আমদানি করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে আমদানি বেড়েছে ৩৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

ফিলিপ ফিউচারের প্রাতিষ্ঠানিক বিক্রয় ব্যবস্থাপক মার্সেলো কালট্রেরা বলেন, পাম অয়েল আমদানি বেড়েছে। এমন সময় বাজারে রমজানে বেড়ে যাওয়া চাহিদার আলোকে সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেলে বড় ধরনের মূলছাড় দেয়া হয়েছে।

কালট্রেরা বলেন, কয়েক মাস ধরে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পাম অয়েল উৎপাদন বাড়বে। তবে করোনা মহামারীর শুরু থেকে খাতটি শ্রমিক সংকটে পড়ে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। দেশীয় শ্রমিকের পাশাপাশি বিদেশী শ্রমিক সংকটও তীব্র আকার ধারণ করে। তবে ধীরে ধীরে এ সংকট কাটিয়ে উঠছে দেশটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতে করোনা মহামারীর প্রকোপ তীব্রভাবে বৃদ্ধির কারণে উচ্চমূল্যের পাম অয়েল বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পণ্যটির বাজারদরে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদি সয়াবিনসহ অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম অপরিবর্তিত থাকে তবে দরপতনের আশঙ্কামুক্ত থাকবে পাম অয়েল।