বিশ্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ঋণ পুনর্গঠন চুক্তি, বহুপক্ষীয় ব্যাংক ও অর্থ ব্যবস্থা সংস্কারকে প্রাধান্য দিয়ে শুরু হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট গ্রুপ অব টোয়েন্টির (জি২০) বৈঠক। গতকাল ভারতের গুজরাটে জি২০ ভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানরা এতে অংশ নিয়েছেন। খবর এপি।

গান্ধীনগরের শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি ও আয়োজক দেশ ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অর্থনেতাদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমাদের দায়িত্ব বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী, টেকসই, ভারসাম্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া।’

সীতারামন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি জ্যানেট ইয়েলেনের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সাংবাদিকদের বলেছেন, দুদিনের আলোচ্যসূচির মূল বিষয় হবে ‘ক্রমবর্ধমান ঋণসংক্রান্ত জটিল সমস্যাগুলোর সমাধান প্রসঙ্গে। এছাড়া বৈঠকে বহুপক্ষীয় উন্নয়ন ব্যাংকগুলোকে শক্তিশালীকরণ ও সমন্বিত জলবায়ু পদক্ষেপ নেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর ওপরও আলোচনা করা।’ মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ইয়েলেন বলেছেন, ‘গোটা বিশ্ব এখন জি২০-এর দিকে তাকিয়ে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন ও মহামারীর মতো প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কী পদক্ষেপ আসছে, তার অপেক্ষা করছে।’

জাম্বিয়ায় ঋণ পুনর্গঠনের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে জ্যানেট ইয়েলেন বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলোর মধ্যে ঋণ সংকট মোকাবেলায় কাজের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন, যা তিনি চলতি মাসে বেইজিং সফরের সময় আলোচনা করেছিলেন। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, এশিয়া ও আফ্রিকার অর্থনৈতিক চাপে থাকা নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রধান ঋণদাতা দেশ এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীন এখনো এ ঋণসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে বহুপক্ষীয় চুক্তিতে আগ্রহী না।

এর আগে ইয়েলেন বলেছেন, জাম্বিয়া চুক্তিটি আলোচনা করতে খুব বেশি সময় নিয়েছে। তিনি আশা করেছেন দ্রুতই ঘানা ও শ্রীলংকার ঋণ সমস্যার সমাধান হবে। তার ভাষায়, ‘‌প্রতিবার শূন্য থেকে শুরু করার পরিবর্তে জাম্বিয়ার ক্ষেত্রে আমরা যে সাধারণ সিদ্ধান্তগুলোয় পৌঁছেছি, সেগুলো একই ধরনের সমস্যায় জর্জরিত অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা উচিত। আমাদের অবশ্যই দ্রুত এসব সমস্যার সমাধানের দিকে যেতে হবে।’

নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অর্ধেক অংশই বর্তমানে ঋণ সংকটে রয়েছে। ২০১৫ সালের চেয়ে ঋণগ্রস্ত দেশের সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ। জি২০ সম্মেলনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দাবি, চীনের কাছ থেকে আশাব্যঞ্জক সাড়া পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ঋণবিষয়ক আলোচনা নিয়ে। কভিড-১৯ ও রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর শক্তিশালী বেশকিছু দেশের পরিস্থিতিই নাজুক রূপ নিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পণ্যের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

চীন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ঋণদাতা দেশ। এজন্য কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দেশগুলোর ঋণ পুনর্গঠনবিষয়ক প্রসঙ্গ আসার পর।

জি২০ ভুক্ত প্রধান দেশগুলো ব্যাংক খাতের সংস্কার নিয়ে বহুপক্ষীয় আলোচনা ও সমঝোতা হবে। প্রাধান্য পাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি, নীতিমালা প্রণয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাব্য নীতিমালা। বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙ্গা বলেছেন, ‘উত্তর মেরুতে জলবায়ু পরিবর্তন মানে কার্বন নিঃসরণ। অন্যদিকে ‌দক্ষিণ মেরুর জন্য এটা টিকে থাকার সংগ্রাম। কারণ হারিকেন এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী। তাপসহ বীজ সরবরাহ তুলনামূলক কম। খরার কবলে পড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে খামার। বন্যায় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায়।’