দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার বাজারে গমের রফতানিমূল্য বাড়তির দিকে ছিল। মাঝে এক সপ্তাহে কমে এলেও দেশটির বাজারে ফের বাড়তে শুরু করেছে রফতানিযোগ্য গমের দাম। সর্বশেষ সপ্তাহে রুশ গমের রফতানিমূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি ২ ডলার বেড়েছে বলে জানিয়েছে কৃষিপণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইকেএআর। মূলত শিকাগো ও প্যারিসের বাজারে দাম বাড়তির দিকে থাকায় রাশিয়াতেও গমের রফতানিমূল্য চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও রয়টার্স।
মস্কোভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি আইকেএআরের প্রধান দিমিত্রি রায়লকো জানান, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার বাজারে ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে রফতানিযোগ্য সাড়ে ১২ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রতি টন গমের রফতানিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫৩ ডলারে। আগের সপ্তাহেও একই মানের প্রতি টন গম ২৫১ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাশিয়ায় গমের রফতানিমূল্য টনে ২ ডলার বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে এক সপ্তাহ পর ফের চাঙ্গা হয়ে উঠল রুশ গমের রফতানিমূল্য।
মস্কোভিত্তিক কৃষিপণ্যবিষয়ক আরেকটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সভইকন জানিয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার বাজারে প্রতি টন গমের দাম ২৫৩ ডলারে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি যবের রফতানিমূল্যও বেড়েছে। এ সময় দেশটিতে ফ্রি অন বোর্ড চুক্তিতে প্রতি টন যবের রফতানিমূল্য দাঁড়িয়েছে ২১৪ ডলারে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় টনপ্রতি ৩ ডলার বেশি।
তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী কয়েক মাসে রুশ গমের রফতানি চাহিদা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটা হলে দেশটির বাজারে রফতানিযোগ্য গমের দাম বর্তমানের তুলনায় কমে আসতে পারে।
রাশিয়া বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ। তবে কৃষিপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় দেশটির অবস্থান শীর্ষে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর কারণে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদিত গমের মান তুলনামূলক ভালো হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এখানকার কৃষিপণ্যটির বাড়তি চাহিদা রয়েছে।
মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৬০ লাখ টন গম রফতানি হতে পারে। আগের বছরের তুলনায় ২০২০ সালে দেশটি থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানি বাড়তে পারে ৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ।










