আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে চাঙ্গা ভাব দেখা গেছে। এ নিয়ে টানা চারদিন ধরে জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। মূলত ইউরোপের কয়েকটি দেশে চলমান লকডাউন শিথিল হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে লকডাউন তুলে নেয়ার সম্ভাবনা থেকে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ সম্ভাবনা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

রয়টার্সের প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে গতকাল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয় ৩৪ ডলার ৬৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪ সেন্ট বেশি। আগের দিন জ্বালানি পণ্যটির দাম ৯ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চে উঠেছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে দশমিক ৯ শতাংশ। এদিন ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৩১ ডলার ৯৩ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩ সেন্ট বেশি। আগের কার্যদিবসে লেনদেনের শুরুতে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩৩ ডলার ৪৪ সেন্টে উঠেছিল। চলতি বছরের ১৬ মার্চের পর এটাই জ্বালানি পণ্যটির সর্বোচ্চ দাম।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ওপেক ও নন-ওপেক দেশগুলোর বৈশ্বিক চুক্তির আওতায় চলতি মাস থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে আসছে। এটা জ্বালানি পণ্যটির বাজার পরিস্থিতিকে আগে থেকেই চাঙ্গা রেখেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইউরোপ-আমেরিকার লকডাউন পরিস্থিতি। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আগের তুলনায় কিছুটা কমে আসায় ফ্রান্স, ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ চলমান লকডাউন শিথিল করেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনীতির স্বার্থে চলমান লকডাউন তুলে নেয়া হবে। ফলে ইউরোপ-আমেরিকায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত মিলেছে। এ সম্ভাবনা দাম বাড়িয়েছে জ্বালানি পণ্যটির।