গম উৎপাদন ও রফতানির জন্য রাশিয়ার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি এখানকার গমের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে তুলেছে। এ কারণে আমদানিকারকরা রাশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে গম কিনতে বেশি আগ্রহী। সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ায় সাড়ে ১২ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ গমের রফতানি মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থেকে টনপ্রতি ২০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। খবর এগ্রিমানি ও বিজনেস রেকর্ডার।
মস্কোভিত্তিক কৃষিপণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সভইকনের এক নোটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ায় ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে রফতানিযোগ্য প্রতি টন সাড়ে ১২ শতাংশ প্রোটিনসমৃদ্ধ গম বিক্রি হয়েছে ২০২ ডলারে।
অন্যদিকে মস্কোভিত্তিক আরেকটি কৃষিপণ্যবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইকেএআর জানিয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার বাজারে জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন গম ২০০ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় কৃষিপণ্যটির দাম বেড়েছে টনে ১ ডলার। একই সময়ে রাশিয়ার বাজারে রফতানিযোগ্য প্রতি টন যব ১৭০-১৭২ ডলারে বিক্রি হয়েছে।
গমের রফতানি মূল্য অপরিবর্তিত থাকার পেছনে কৃষিপণ্যটির চাহিদা কমে যাওয়াকে চিহ্নিত করেছে সভইকন। প্রতিষ্ঠানটির নোটে বলা হয়েছে, সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৩৪ হাজার টন গম রফতানি হয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ লাখ ৫ হাজার টন গম রফতানি হয়েছিল। রফতানিতে এ পতন সর্বশেষ সপ্তাহে রাশিয়ার বাজারে গমের দাম বাড়তে দেয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ২৮ মে পর্যন্ত সময়ে রুশ রফতানিকারকরা সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টন শস্য রফতানি করেছেন। এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে শস্য রফতানি কমেছে ১৩ শতাংশ। এ সময় রাশিয়া থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রফতানি হয়েছে ৩ কোটি ২ লাখ টন।
উল্লেখ্য, গম উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় রাশিয়ার অবস্থান চতুর্থ। তবে কৃষিপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় রাশিয়া শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।










