ইন্দোনেশিয়ার সরকার পাম অয়েলের সর্বোচ্চ শুল্ক দ্বিগুণ করেছে। শুল্ক বাড়ানোর প্রধান উদ্দেশ্য কোম্পানিগুলোকে পণ্যটি রফতানিতে নিরুৎসাহিত করা। কারণ দেশটিতে বর্তমানে পাম অয়েলভিত্তিক ভোজ্যতেলের সংকট চলছে। ফলে রফতানি বাড়লে এ সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।

দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি একটি নীতিমালা প্রকাশ করে। এতে রফতানি শুল্ক ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়। নতুন নীতিমালার অধীনে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েল (সিপিও) রফতানিতে শুল্ক দিতে হবে ৩৭৫ ডলার, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টনের দাম দেড় হাজার ডলারেরও বেশি। এর আগে প্রতি টন পাম অয়েল রফতানিতে সর্বোচ্চ ১৭৫ ডলার শুল্ক দিতে হতো। অপরিশোধিত পাম অয়েল সহায়তা তহবিল (বিপিডিকেএস) শুল্কের অর্থ তহবিল আকারে গ্রহণ করবে।

ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী মোহাম্মাদ লুতফি বলেন, সরকার পাম অয়েলের সর্বোপরি রফতানি শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা বাড়াবে। রফতানি শুল্কের সঙ্গে আবগারি শুল্ক মিলিয়ে শুল্ক দিতে হবে ৮০ শতাংশ। সে হিসাবে প্রতি টনে শুল্ক বাবদ ব্যয় হবে ৬৭৫ ডলার।

এদিকে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরো একটি নীতিমালা জারি করে। এতে দেশটির পাম অয়েল উৎপাদকদের তাদের মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ সরকারকে সরবরাহ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এটিও রফতানি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। তবে লুতফি বলেন, বর্তমানে এ নীতিমালার প্রয়োজন হবে না। কারণ দ্বিগুণ শুল্কের কারণে রফতানির তুলনায় দেশের বাজারে পাম অয়েল বিক্রিই সবচেয়ে বেশি লাভজনক।

চলতি বছর ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। মূলত অনুকূল আবহাওয়া ও প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোয় ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এতে সহায়তা করছে। সম্প্রতি দেশটির পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (গাপকি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর ইন্দোনেশিয়ায় ৪ কোটি ৮০ হাজার টন পাম অয়েল উৎপাদন হতে পারে। গত বছর উৎপাদন হয়েছিল ৪ কোটি ৬৯ লাখ টন। সে হিসাবে উৎপাদন ১১ লাখ টন বাড়বে।

এদিকে উৎপাদন বাড়লেও কমছে ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েলের রফতানি চাহিদা। চলতি বছর চাহিদা গত বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ২ কোটি ৯৮ লাখ টনে নামতে পারে। ফলে পণ্যটির মজুদ ৭০ লাখ টন বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন গাপকির নির্বাহী চেয়ারম্যান তোগার সিতাংগাং।

বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। অপরিশোধিত অবস্থায় এ ভোজ্যতেল রফতানি বন্ধের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। গত বছরের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো এ পরিকল্পনার কথা জানান।