বিশ্বের বেশির ভাগ দেশই করোনা মহামারীর সঙ্গে লড়াই করছে। এ দুর্যোগের মুখে কমে গেছে অলিভ অয়েলের বৈশ্বিক উৎপাদন। তবে বিশ্ববাজারে পণ্যটির চাহিদা ক্রমবর্ধমান। ফলে মহামারীর প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও অলিভ অয়েলের ব্যবহার প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অলিভ কাউন্সিল (আইওসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অলিভ অয়েলের ২০২০-২১ উৎপাদন মৌসুম শেষ হবে। আইওসির প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, এ মৌসুমে পণ্যটির বৈশ্বিক ব্যবহার দাঁড়াবে ৩২ লাখ ১১ হাজার টনে, যা গত বছরের তুলনায় মাত্র দশমিক ২ শতাংশ কম। অর্থাৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব বেশি উত্থান-পতন দেখা যাবে না।

তবে অলিভ অয়েলের উৎপাদন থাকবে নিম্নমুখী। ২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ৩০ লাখ ৩৪ হাজার টন অলিভ অয়েল উৎপাদিত হবে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমবে বলে জানিয়েছে আইওসি। পাঁচ বছরের গড় হিসাব অনুযায়ী উৎপাদন ১ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পাবে।

শুধু উৎপাদনই নয়, অলিভ অয়েল আমদানি ও রফতানিতেও মন্দাভাব বজায় থাকবে। আইওসি জানায়, পণ্যটির আমদানি ৯ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১০ লাখ ৭৪ হাজার টনে নেমে আসবে। অন্যদিকে রফতানি ৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১১ লাখ ৩২ হাজার টনে পৌঁছবে।

বিশ্বের শীর্ষ অলিভ অয়েল উৎপাদক দেশ স্পেন। চলতি মৌসুমেও দেশটির আধিপত্য বজায় থাকবে। এ সময় স্পেন সব মিলিয়ে ১৪ লাখ টন অলিভ অয়েল উৎপাদন করতে সক্ষম হবে বলে জানিয়েছে আইওসি। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন ২৪ শতাংশ বাড়বে। সর্বশেষ পাঁচ বছরের তুলনায় গড় উৎপাদন বাড়বে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক অলিভ অয়েলবিষয়ক পরামর্শক জন ভিলার জানান, গত অর্ধদশকের মধ্যে ২০১৮-১৯ মৌসুমে স্পেন রেকর্ড পরিমাণ অলিভ আবাদ করেছিল। ওই মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ৮৫ হাজার টন অলিভ অয়েল। চলতি বছর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আবাদ করা হয়েছে। তবে উৎপাদনের যতটুকু সম্ভাবনা রয়েছে, দেশটি তার শতভাগ পূরণ করতে পারেনি বলেও জানান তিনি।

ভিলার অলিভঅয়েলটাইমসকে বলেন, চলতি মৌসুমে স্পেনে যে পরিমাণ অলিভ গাছ রয়েছে তাতে প্রায় ২০ লাখ অলিভ অয়েল উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু দেশটি সক্ষমতার সর্বোচ্চ অলিভ অয়েল উৎপাদন করতে পারছে না। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্বল ব্যবস্থাপনা, বাজারদরের নিম্নমুখিতাসহ বিভিন্ন বিষয় দেশটির উৎপাদন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অলিভ অয়েল উৎপাদক দেশ ইতালি। চলতি মৌসুমে দেশটির অলিভ অয়েল উৎপাদনে ধস নামতে পারে। এটি স্পেনকে আধিপত্য ধরে রাখতে সহায়তা দেবে। ২০২০-২১ মৌসুমের এখন পর্যন্ত ইতালি ২ লাখ ৭০ হাজার টন অলিভ অয়েল উৎপাদন করেছে। চলতি মৌসুমে ইতালির উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ২৭ শতাংশ কমবে। গ্রিসের উৎপাদনও ইতালির কাছাকাছি পর্যায়ে থাকবে।

ইতালিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব দি অয়েল ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট অ্যানা কেইন বলেন, চলতি বছরের উৎপাদন দেশীয় অলিভ অয়েলের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না। রফতানি ও স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে ইতালির সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর প্রতি বছর ১০ লাখ টন অপরিশোধিত অলিভ অয়েল চাষীদের থেকে সংগ্রহ করতে হয়। কিন্তু চলতি বছর মোট উৎপাদন চাহিদায় সাড়া দিতে পারবে না। ফলে আমাদের অলিভ অয়েল আমদানি ও আবাদ বাড়াতে হবে।