সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডকে রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ৮৯১তম কমিশন সভায় গতকাল এ অনুমোদন দেয়া হয়। 

বিএসইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সিনোবাংলা ১০ টাকা মূল্যের ১ কোটি ৯৮ হাজার ২৮৩টি সাধারণ শেয়ার প্রতিটি ২০ টাকা মূল্যে (শেয়ারপ্রতি ১০ টাকা হারে প্রিমিয়ামসহ) রাইট শেয়ার হিসেবে ইস্যুর মাধ্যমে মোট ২০ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬৬০ টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটি মূলধনি যন্ত্রপাতি ক্রয় ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করছে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড। 

রাইট শেয়ার ডকুমেন্ট অনুযায়ী, ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩২ পয়সা। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ১৯ পয়সায়। সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের কোম্পানিটির ইপিএস ১ টাকা ৮১ পয়সা। ওই বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস পুনর্মূল্যায়নসহ ২৭ টাকা ৮৭ পয়সা, পুনর্মূল্যায়ন ব্যতীত যা ২৭ টাকা ৭৪ পয়সা। 

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩৩ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৬৫ পয়সায়। 

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৯ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৮ টাকা ৩৪ পয়সায়।

 সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ ও ১ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য ১০ নগদ শতাংশ লভ্যাংশ দেয় সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ৯৮ পয়সায়, আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ২৫ টাকা ৬৯ পয়সা। 

৩০ জুন ২০২০ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা। ৩০ জুন শেষে প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৫ টাকা ৬৯ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৫ টাকা ৩৮ পয়সা। ২০১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আগের দুই হিসাব বছরেও একই হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

১৯৯৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ২০ কোটি ১৯ লাখ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ২ কোটি ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬৬। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক ৬১, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪ দশমিক ৫১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

ডিএসইতে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ার সর্বশেষ দর ছিল ৭০ টাকা ১০ পয়সা। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৫১ টাকা ৬০ ও ৮৩ টাকা ৯০ পয়সা।