মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের নভেম্বর শেষে পাম অয়েলের মজুদ বড় পরিসরে কমেছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে দেখা গেছে, পণ্যটির মজুদ কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। খবর নাসডাক।

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় গত মাসে পাম অয়েল উৎপাদন বৃদ্ধির হার ছিল অত্যন্ত স্বল্প। ঊর্ধ্বমুখী রফতানি উৎপাদন বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। মূলত এ কারণেই নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে পণ্যটির মজুদ।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পাম অয়েল উৎপাদন, রফতানি ও মজুদ পরিস্থিতির ওপর একটি জরিপ চালায় রয়টার্স। এতে ১১ জন উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষক অংশ নেন। জরিপের তথ্যমতে, নভেম্বর শেষে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭০ হাজার টনে।

এতে আরো বলা হয়, বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশটিতে নভেম্বরে পাম অয়েল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ১ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৪০ হাজার টনে। একই সময় দেশটির পাম অয়েল রফতানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯০ হাজার টনে।

পাম অয়েল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান কোয়ান্তাস অয়েলের জেনারেল ম্যানেজার লি তং হোয়াং বলেন, নভেম্বরে মালয়েশিয়ার পাম অয়েল রফতানিতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি রফতানি করা হয়েছে ফিলিপাইনে। এদিকে রফতানি বাড়লেও পণ্যটির দাম এখনো চড়া। ফলে চাহিদায় ভাটা পড়তে পারে।

তথ্য বলছে, অপরিশোধিত পাম অয়েলের মালয়েশিয়ান বাজার আদর্শের দাম চলতি বছর প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ২১ অক্টোবর পণ্যটির বাজারদর রেকর্ড সর্বোচ্চে উন্নীত হয়। ওই সময় প্রতি টন পাম অয়েলের দাম উঠেছিল ১ হাজার ২৩৮ ডলার ৩৮ সেন্ট পর্যন্ত।

বিশ্লেষকদের দেয়া তথ্য বলছে, মহামারী শুরুর পর মালয়েশিয়ায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এ সংকট এখনো কাটেনি। ফলে পাম অয়েল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে দেশটি। এ কারণেই ধারাবাহিকভাবে মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম বাড়ছে।

এদিকে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্তের পর থেকে পাম অয়েলের চাহিদা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গিয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ধরনটির সংক্রমণপ্রবাহ গতিশীল হলে চাহিদা তলানিতে নামতে পারে। কমতে পারে পণ্যটির দামও। তবে এ প্রভাব বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেও ধারণা করছেন তারা।