চলতি দশকে নিকেলের আন্তর্জাতিক বাজারে আধিপত্য করবে ইন্দোনেশিয়া। ধাতুটির উত্তোলন ও রফতানি বৃদ্ধিতে দেশটি বেশকিছু নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে বৈশ্বিক নিকেল উৎপাদনে ৬০ শতাংশ হিস্যা বাড়বে ইন্দোনেশিয়ার। খবর ফোর্বস।

ইন্দোনেশিয়ার নিকেল খাতে ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে বিনিয়োগ ব্যাংক ম্যাকোয়ারি। পূর্বাভাসে বলা হয়, গত বছর নিকেলের বৈশ্বিক উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ২৫ লাখ টন। ২০২৮ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া এর চেয়ে বেশি পরিমাণ নিকেল উত্তোলনের সক্ষমতা অর্জন করবে।

ম্যাকোয়ারি জানায়, নিকেলের বৈশ্বিক উৎপাদনে হিস্যা বাড়াবে ইন্দোনেশিয়া। আট বছরের মধ্যে বৈশ্বিক নিকেল উত্তোলনে দেশটির অংশীদারিত্ব ২৮ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে দাঁড়াবে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত বছর ইন্দোনেশিয়ার খনিগুলো থেকে ৭ লাখ ৭১ হাজার টন নিকেল উত্তোলন করা হয়, যা বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ নিকেল উত্তোলক ফিলিপাইনের দ্বিগুণ এবং বৈশ্বিক উত্তোলনের এক-তৃতীয়াংশ।

ম্যাকোয়ারি ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক জিম লেনন বলেন, চলতি বছর নিকেল উত্তোলন ১০ লাখ টনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে। আগামী এক দশকে দেশটি সব মিলিয়ে ২৫ লাখ টন নিকেল উত্তোলন করতে সক্ষম হবে, যা গত বছরের মোট বৈশ্বিক উৎপাদনসীমাকে ছাড়িয়ে যাবে।

নিকেলের বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারই মূলত কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এক দশকের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি কমিয়ে আনার কথা জানিয়েছেন। এতে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি)। যানবাহনটির ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহূত হয় নিকেল। ফলে ইভির মতো নিকেলের চাহিদাও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার নিকেল খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করছে চীনের বিভিন্ন কোম্পানি। স্টেইনলেস স্টিল উৎপাদন এবং ইভির ব্যাটারি তৈরিতে সুবিধা পেতে ইন্দোনেশিয়ার নিকেল খাতকে আঁকড়ে ধরতে কাজ করছে চীন।

ম্যাকোয়ারি ব্যাংকের দেয়া তথ্যমতে, ইন্দোনেশিয়া এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের সমন্বয়ে একটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এগুলোর কোনোটি কার্যাধীন, কোনোটি ঘোষণা করা হয়েছে মাত্র আবার কোনোটি পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানায়, ইন্দোনেশিয়া নিকেল উত্তোলনে একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ওয়েদা বে নামের প্রকল্পটি দক্ষিণ মালুকু প্রদেশের হালমহেরা দ্বীপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের অধীনে প্রতি বছর ১ লাখ ২০ হাজার টন নিকেল উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি ১৫ হাজার টন কোভ্যাল্টও উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রকল্পে বড় অংকের অর্থায়ন করবে চীন। ইন্দোনেশিয়া ও চীনের যৌথ অংশীদারিত্বটি স্থানীয়ভাবে পিটি হুয়াইউ নিকেল কোভ্যাল্ট নামে পরিচিত। এ প্রকল্পে ২০৮ কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে চীনের খনিজ সম্পদ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ঝিজিয়াং হুয়াইউ কোভ্যাল্ট। ম্যাকোয়ারি ব্যাংকের ভাষ্য, মূলধন সম্পত্তির ব্যয়ের অনুপাতে প্রকল্পটি আকারে বড় কিন্তু সাশ্রয়ী।

ম্যাকোয়ারি ব্যাংকের কর্তাব্যক্তিরা বলেন, ব্যাটারি তৈরির জন্য নিষ্কাশন প্রকল্পের অধীনে আরো আটটি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন নিকেল ও ৫০ হাজার টন কোভ্যাল্ট নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে। নিকেলের সস্তা বিকল্প হিসেবে পরিচিত নিকেল পিগ লোহা। নতুন প্রকল্পগুলোয় এ ধাতুর উত্তোলনও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।