গত ২১ মাসে মার্চে চীনে নতুন বাড়ির দাম বেড়েছে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। দেশটির সরকারি তথ্যে এমন চিত্র উঠে এসেছে। তবে বেশকিছু সহায়তামূলক নীতি সত্ত্বেও মনে হচ্ছে দেশটির আবাসন খাতের বাজারে অস্থিরতা থেকেই যাবে। খবর রয়টার্স।
মার্চে চীনে নতুন বাড়ির দাম আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা বেড়েছিল দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২১ সালের জুনের পরে এবারই দাম সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ও টানা তৃতীয় মাসের মতো বাড়ল। ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্যে এসব চিত্র উঠে এসেছে।
২০২২ সালের জুনের পরে বার্ষিক হিসেবে দাম সবচেয়ে ধীরগতিতে কমেছে। মার্চে এর হার দশমিক ৮ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ১ দশমিক ২ শতাংশ। বার্ষিক হিসেবে এ সংখ্যাটা ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমার হার।
সাংহাইভিত্তিক ই-হাউজ চায়না রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউশনের বিশ্লেষক ইয়ান ইউইন বলেন, ‘হাউজিং প্রাইস ইনডেক্সে এখন স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধারের একটা ধারা দেখা যাচ্ছে। তা থেকে পরিপূর্ণ ইঙ্গিত মিলছে, মোটের ওপর আবাসন খাত গত বছরের কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছে।’
ইয়ান বলেন, ‘বেশি বেশি বাড়ি বিক্রি হওয়ায় মার্চে বাড়ির দামে এমন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চীনের অর্থনীতির এক-তৃতীয়াংশই আবাসন খাত। ডেভেলপারদের উচ্চঋণের মাত্রার ওপর নিয়ন্ত্রক ক্র্যাকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হওয়া, সেই সঙ্গে আবাসন প্রকল্পে নির্মাণকাজ স্থগিত হওয়ায় গত বছর এ খাত বড় ধরনের ধাক্কা খায়।
গত মাস থেকে বড় শহরগুলোয় বাড়ি বিক্রির কার্যক্রম বেশ পুনরুদ্ধার হয়েছে। গত ডিসেম্বরে দেশটি থেকে কভিড নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় দাবিয়ে রাখা চাহিদা বেশ প্রসারিত হয়েছে। এনবিএসের চালানো জরিপের তথ্যে ৭০টি শহরের মধ্যে ৬৪টিতে নতুন বাড়ির দামে মাসিক হিসেবে অল্পকিছু ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ২০১৯ সালের মে মাসের পর এবারই সবচেয়ে বেশি শহরে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারিতেও যেখানে সংখ্যাটা ছিল ৫৫।
বাড়ির দামের এ উল্লম্ফন শহরের সবগুলো ধাপেই বেশ বিস্তৃত ছিল, ফলে মাসওয়ারি বৃদ্ধি বেশি বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাসের অনিশ্চয়তার কারণে এখনই বলা যাচ্ছে না, এভাবে আবাসন খাতের পুনরুদ্ধার টেকসই হবে কিনা।
গত মাসে ৫০টিরও বেশি শহরে প্রণোদনা নীতি প্রণয়ন হয়েছে চীনজুড়ে। পাশাপাশি আরো কিছু আবাসন নীতিতে ছাড় দেয়া হয়েছে। তার মধ্যে ভর্তুকি, আরো বেশি আবাসন ভবিষ্যৎ তহবিল ও বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বাধা তুলে নেয়ার মতো বিষয়ও আছে।
সিএসসিআই পেংগিউয়ান ক্রেডিট রেটিং লিমিটেডের বিশ্লেষক য়ু জিনহুই বলেন, ‘এ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অপর্যাপ্ত চাহিদা। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ তো রয়েছেই। তাছাড়া আবাসন খাতে ক্রমাগত স্থিতিশীলতা বেশ সংকটপূর্ণ থাকে। সাম্প্রতিক তথ্যেও দেখা গেছে, বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধীর হয়েছে।’
চলতি সপ্তাহের ক্রেডিট তথ্য বলেছে, সম্পদের লেনদেনের পাশাপাশি পারিবারিক পর্যায় থেকে দীর্ঘকালীন ঋণের প্রবৃদ্ধিও মার্চে বেড়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই বন্ধকি। এপ্রিলের শুরুতে শহুরে আমানতকারীদের একটি ত্রৈমাসিক জরিপ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে দেখা গেছে, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর পরবর্তী তিন মাসে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আগের প্রান্তিকের জরিপে পাওয়া ১৬ শতাংশের তুলনায় বেশি।










