যুক্তরাষ্ট্রে সয়াবিন উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়েছে ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার (ইউএসডিএ)। মার্কিন কৃষি বিভাগের ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটসের (ডব্লিউএএসডিই) সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অন্যদিকে চলতি ২০২৩ বিপণন মৌসুমে ভুট্টার ফলন প্রাক্কলন বাড়িয়েছে ইউএসডিএ। খবর ওয়াল্ড গ্রেইন।

ইউএসডিএর সেপ্টেম্বর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন উৎপাদন প্রাক্কলন কমেছে ১ শতাংশ। পূর্বের ৪২১ কোটি বুশেল থেকে কমিয়ে আগস্টে সংশোধিত প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৪১৫ কোটি বুশেল। ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় এ বছর উৎপাদন কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ। গত বছর ভোজ্যতেল বীজটির উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৪২৮ কোটি বুশেল। অন্যদিকে ভুট্টার ব্যাপক ফলন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আগস্টের ১ হাজার ৫১১ কোটি বুশেল পূর্বাভাস সংশোধন করে নতুন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি বুশেল, যা গত বছরের ১ হাজার ৩৭৩ কোটি বুশেলের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডভান্সড ইকোনমিক সলিউশনসের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বিল ল্যাপ বলেন, ‘এ পরিসংখ্যানে আগস্টের আবহাওয়ার প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৩ সালে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি জমিতে ভুট্টা ও সয়াবিন আবাদ করা হয়েছে।’

বাণিজ্য পূর্বাভাসের রিপোর্ট রেঞ্জের নিচে নেমেছে সয়াবিনের উৎপাদন। ইউএসডিএর ৪১৫ কোটি বুশেল গড় প্রত্যাশা ছুঁতে পারেনি তেলবীজটি। অন্যদিকে বিপরীত অবস্থা ভুট্টা উৎপাদন চিত্রে। বাণিজ্য পূর্বাভাসের রিপোর্ট রেঞ্জকেও ছাড়িয়ে গেছে শস্যটির উৎপাদন। প্রাথমিক প্রাক্কলনে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি বুশেল উৎপাদন ধরা হলেও বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি বুশেলে।

ল্যাপ জানান, আগামী ১২ অক্টোবর ইউএসডিএ-পরবর্তী প্রাক্কলন প্রকাশ করবে। অক্টোবর প্রাক্কলনে ভুট্টার চেয়ে সয়াবিনের উৎপাদন কমার ঝুঁকি বেশি থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মার্কিন কৃষি বিভাগের ডব্লিউএএসডিই রিপোর্টের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী বছর ভুট্টার উৎপাদন আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে দশমিক ৯ শতাংশ বা ১ কোটি ৯৯ লাখ বুশেল বাড়বে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শস্যটির উৎপাদন দাঁড়াবে ২২২ কোটি বুশেল, যা ২০২৩ সালের সংশোধিত ১৪৫ কোটি বুশেল থেকে ৫৩ শতাংশ বেশি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সয়াবিনের উৎপাদন ওই বছরের আগস্টের চেয়ে ১০ শতাংশ বা ২ কোটি ৫০ লাখ বুশেল কমে যেতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২ কোটিতে, যা ২০২৩ সালের একই সময়ের সংশোধিত ২৫ কোটি বুশেল থেকে তিন কোটি বুশেল কম।

১ সেপ্টেম্বরের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড় সয়াবিনের ফলন ধরা হয়েছে একরপ্রতি ৫০ দশমিক ১ বুশেল। হিসাব অনুযায়ী, আগস্টের একরপ্রতি ফলন ৫০ দশমিক ৯ বুশেল থেকে কমলেও ২০২২ সালে একরপ্রতি ৪৯ দশমিক ৫ বুশেলের চেয়ে বেশি। আবাদি জমির পরিমাণ আগস্ট প্রাক্কলন থেকে দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। সেপ্টেম্বর পূর্বাভাসে আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ একর। তবে এ পরিমাণ ২০২২ সালের ৮ কোটি ৬৩ লাখ একর থেকে ৪ শতাংশ কম।