চলতি অর্থবছরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ৬০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পণ্য আমদানি অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আহরণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার প্রত্যাশা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। এদিকে বন্দরের অবকাঠামো ও পণ্য আমদানিতে বিরাজমান সমস্যা নিরসন হলে লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশন কার্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে অর্থবছর শেষে আহরণ হয়েছিল ৪২৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। এতে ওই অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ২৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর থেকে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬০৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করছে এনবিআর। অর্থবছরের প্রথম মাসে ৪২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এতে করে প্রথম মাসেই ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, একে তো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্যের আমদানি কমেছে। এর পরও হিলি স্থলবন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রার অধিক রাজস্ব আহরণ সম্ভব। কিন্তু দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য রয়েছে। এটি নিরসন করা হলে আরো অনেক পণ্য এ বন্দর দিয়ে আমদানির সুযোগ রয়েছে। তা সম্ভব হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে। বন্দরের সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। ফলে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া বন্দরের ভেতরে যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় লাগায় পণ্য আমদানি করে লোকসান গুনতে হয় আমদানিকারকদের। এসব কারণে আমদানিকারকরা হিলি স্থলবন্দর ব্যবহারে নিরুৎসাহিত হন। দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান করা হলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বন্দর দিয়ে দুদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানির জন্য মাত্র একটি সড়ক রয়েছে। সীমান্তের চেকপোস্ট থেকে শুরু করে ৫০০ গজ ভারত অভ্যন্তরে সে সড়ক খুবই অপ্রশস্ত। ফলে কোনো ট্রাক বিকল হয়ে গেলে অন্য ট্রাক প্রবেশ করতে পারে না। মাঝেমধ্যেই ট্রাক বিকল হয়ে পড়ার কারণে কয়েক ঘণ্টা করে পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকে। প্রতিদিন বন্দর দিয়ে ২৫০ ট্রাক পণ্য আমদানির সুযোগ থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে রাজস্ব আহরণে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে পণ্য ওঠানামা করার জন্য যেসব ইকুইপমেন্ট প্রয়োজন, সেগুলোর ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হলে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বাড়বে, বাড়বে রাজস্ব আহরণও।
হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শাহিনুর রেজা বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে একটি জটিলতা রয়েছে। অন্যান্য বন্দরে আমদানীকৃত পণ্য ওজন করে শুল্ক নেয়ার প্রথা থাকলেও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানির ক্ষেত্রে ট্রাকের চাকা অনুযায়ী শুল্ক নেয়ার একটি বিশেষ পদ্ধতি চালু আছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ফল আমদানি একেবারে বন্ধ। এছাড়া দেশের অন্য বন্দর দিয়ে আমদানীকৃত পণ্য যে মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়, একই পণ্য হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানির ক্ষেত্রে বাড়তি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়। এতে মোটরসাইকেল পার্টস আমদানিও বন্ধ। এছাড়া বিভিন্ন পরিক্ষা-নিরীক্ষার নামে আমদানিকারকদের হয়রানি করা হয়। ফলে বন্দর দিয়ে অধিক শুল্কযুক্ত পণ্যের আমদানি কমেছে।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উপকমিশনার বায়োজিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে বন্দর দিয়ে নিয়মিতভাবে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে তা যদি আরো বাড়ে, তাহলে অবশ্যই রাজস্ব আহরণ বাড়বে। তবে কোনো কারণে যদি আমদানির পরিমাণ কমে যায়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নাও হতে পারে। বর্তমানে দেশে ডলারের দাম বেশি। ফলে পণ্য আমদানি বাড়ছে না। তবে বড় কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখা না দিলে রাজস্ব আহরণ বাড়বে।









