যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) এক পূর্বাভাসে বলেছে, ২০২০-২১ মৌসুমে রাশিয়ায় ৮৩ মিলিয়ন টন গম উৎপাদন হবে। তাদের এ পূর্বাভাস বিশ্বে গমের উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে আর গমের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কারও ইতি টানছে। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।

ইউএসডিএর সেপ্টেম্বর মাসে করা পূর্বাভাসের চেয়ে অক্টোবরের পূর্বাভাসে রাশিয়ায় গমের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যশস্য উৎপাদনের দিক থেকে রাশিয়ায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে যাবে গম। ইউএসডিএ তাদের ‘ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচারাল সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাশিয়ার গমের উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগের পূর্বাভাসের সঙ্গে অবশ্য রাশিয়ার অন্যান্য সংস্থার পূর্বাভাসও মিলে যাচ্ছে। তারাও চলতি মৌসুমে দেশটিতে ৮৩ মিলিয়ন টন গম উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগের বক্তব্য, ‘গম ফলনের এ প্রবৃদ্ধির কথাটি রাশিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা সর্বশেষ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বলা, যারা আগামী বসন্তে রেকর্ড পরিমাণ গত উৎপাদনের আভাস দিয়েছে।’

সংস্থাটি আরো বলছে, রাশিয়া ২০২০-২১ মৌসুমে (জুলাই-জুন) ৩৯ মিলিয়ন টন গম রফতানি করবে, যা আগের তিন বছরের রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে।

ইউক্রেন, আর্জেন্টিনার শঙ্কা শুষ্ক আবহাওয়া

রাশিয়া উৎপাদন বৃদ্ধির সুখবর শোনালেও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের আরেক শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ ইউক্রেনে এবার দুঃসংবাদ। যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগের প্রতিবেদন বলছে, দেশটিতে ২০২০-২১ মৌসুমে গম উৎপাদন ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন কমে ২৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন টনে নেমে আসবে।

ইউক্রেনের উৎপাদন কমাবে বৈরী আবহাওয়া। দেশটির কৃষকরা শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে গম উৎপাদনে বাধার মুখে পড়বেন, তাতে উৎপাদন সক্ষমতাও অনেকটা কমে যাবে।

শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে অন্য যে দেশটির গম উৎপাদন ব্যাহত হবে সেটি আর্জেন্টিনা। আবহাওয়ার কারণে এখানে কিছু কিছু অঞ্চলের কৃষকদের জন্য শস্যের মান ঠিক রাখা কঠিন হয় পড়বে। এ সময় আর্জেন্টিনায় গম উৎপাদন ৫ লাখ টন কমে যাবে, তাতে চলতি মৌসুমে তাদের উৎপাদন নেমে যাবে ১৯ মিলিয়ন টনে। ফলে ২০১৯-২০ মৌসুমের চেয়ে দেশটিতে গম উৎপাদন কমে যাবে।

উৎপাদন কমে যাওয়ায় রফতানিও কমবে আর্জেন্টিনার। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ মৌসুমে আর্জেন্টিনা ১৩ মিলিয়ন টন গম রফতানি করবে।

চীনে গম আমদানি বাড়বে

২০২০-২১ মৌসুমে (জুলাই-জুন) চীনের গম আমদানি বাড়বে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগ। সেপ্টেম্বর মাসে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ বাড়বে বলে জানানো হয় শুক্রবারের প্রতিবেদনে। এবার তারা ৭ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন গম আমদানি করবে, যা বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০২০-২১ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বাড়তি গম আমদানির প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে চীন, এ কারণেই তাদের সামগ্রিক আমদানি বেড়ে যাবে। চার বছরের মধ্যে এবারই যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি গম আনছে চীন। এছাড়া চলতি মৌসুমে তারা গম আনবে ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকেও।

বেইজিংভিত্তিক অ্যানালিটিকস ফার্ম ‘কফিড’-এর তথ্যমতে, এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া থেকে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন গম আমদানি করেছে চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন হ্রাস

২০২০-২১-এর বাজার মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্র ৪৯ দশমিক ৭০ মিলিয়ন টন গম উৎপাদন করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র কৃষি বিভাগ, যা সেপ্টেম্বর মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ১ শতাংশ কম। ‘হার্ড রেড উইন্টার হুইট’-এর আবাদ ২০১৯-২০ মৌসুমের চেয়ে ২২ শতাংশ কমে যাবে, যা প্রভাব রাখছে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক গম উৎপাদনের ওপর।

২০২০-২১ মৌসুমে (জুন-মে) যুক্তরাষ্ট্র ২৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন গম রফতানি করবে বলে প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের সমান।

২০২০-২১ মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রের গমের মজুদ থাকবে ২৪ দশমিক ১৪ মিলিয়ন টন, যা আগের মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

সামগ্রিকভাবে ২০২০-২১ মৌসুমে বিশ্বে গমের মজুদ থাকবে ৩২১ দশমিক ৫ মিলিয়ন টন, যা সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে ছিল ৩১৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন টন।