উন্নত দেশগুলোয় মূল্যস্ফীতি শীর্ষে পৌঁছেছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সম্প্রতি কঠোর সুদহার নীতি অবলম্বনের কথা বলছে। সুদহার বৃদ্ধি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান পুঁজিবাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটি মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগকে প্রভাবিত করেছে। এমন বাস্তবতায় বিশ্বব্যাপী সুদহার বৃদ্ধির এ প্রবণতা শেষ হতে যাচ্ছে কিনা, প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
আগস্টের শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সম্প্রতি কিছু ইতিবাচক তথ্য প্রতিবেদন এলেও মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো তীব্র। মার্কিন অর্থনীতি শক্তিশালী আছে, বিশেষ করে মার্চ ২০২২ থেকে সুদহার বৃদ্ধির কারণে। জেরোম পাওয়েল উল্লেখ করেন, অর্থনীতি আশানুরূপ স্থিতিশীল নাও হতে পারে।
যদিও শিল্পোৎপাদন খাত দুর্বল, তার সঙ্গে বিনিয়োগ ধীর হয়েছে। তবে অর্থনীতি চলতি বছর ২2শতাংশেরও বেশি প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। এটি হয়েছে শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয়ের কারণে কম বেকারত্ব ও ক্রমবর্ধমান মজুরি দ্বারা।
ফেড কঠোর নীতি চালিয়ে যেতে পারে। সম্ভবত চলতি মাসে সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাপী খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রবৃদ্ধি দুর্বল।
সাম্প্রতিক তথ্য দেখাচ্ছে, দুর্বল শিল্পোৎপাদন খাতের কারণে ইউরোজোনের অর্থনীতি সংকুচিত। আগস্টে যুক্তরাজ্যের পিএমআই ডাটা প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইউরোজোন ও যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতির চাপ বর্তমানে বেশি। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের দুর্বল অর্থনীতির কারণে সুদহার আরো বাড়াতে দ্বিধাবোধ করছে।
সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও চীনের অর্থনৈতিক তথ্য হতাশা দেখিয়েছে। ২০২৩ সালে জিরো কভিড-১৯ নীতি পরিত্যাগ করার পরে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা এখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, চীনের ধীর প্রবৃদ্ধি মানে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিও কমে যাওয়া।










