গেল বছরে ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ওটির উদ্বোধন হয়। এ স্বল্প সময়ে হাসপাতালটিতে সফলতার সঙ্গে এক হাজারটি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। এক হাজারাটি পরিবারের ম্লান হয়ে যাওয়া মুখের হাসি ফিরে এসেছে। দ্রুততম সময়ে ১০০০ অপারেশনের মাইলফলক অর্জন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারে বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম। এ সময় তিনি ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারকে ঘিরে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একাংশ তুলে ধরেন।  সাকিফ শামীম মাত্র ৩ বছরে হাসপাতালটির অগ্রযাত্রায় সকলের নিরলস পরিশ্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে তিনি  বলেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের আস্থার জায়গায় হাসপাতালটির স্থান পক্ত করতে আরো অনেকদূরের পথচলা বাকি। এ পথচলায় সকলের সঙ্গ কামনা করে হাসপাতালটির সার্বিক উন্নয়নে সকলকে একযোগে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্টাফরা। হাসপাতালটির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় উঠে আসে ক্যান্সার চিকিৎসার মান উন্নয়নে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালের বিভিন্ন পরিকল্পনা এবং সেগুলো বাস্তবায়নে নেয়া নানা পদক্ষেপ। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আলীম (ডিরেক্টর, মেডিক্যাল সার্ভিসেস এবং সিনিয়র কনসালটেন্ট, অ্যানেস্থেসিওলজি) তার বক্তব্যে বিভিন্ন সূক্ষ্ম ও জটিল সার্জারিতে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারে কী ধরনের সতর্কতা অবলম্বন করা হয় সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। মাত্র ১.২৫% সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশন রেট নিয়ে এক হাজারটি অপারেশন সম্পন্ন করে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এ হাসপাতাল, যা ভারত, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশের হাসপাতালগুলোর থেকেও কম। ইনফেকশন রেট কম হওয়ার কারণে রোগীকে বেশিদিন হাসপাতালে থাকতে হয় না। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল আলিম সার্জিক্যাল সাইট ইনফেকশন রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া টিমের বিচক্ষণতার প্রশংসা করেন এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। বাংলাদেশে বিশ্বমানের ক্যান্সার চিকিৎসা  দেয়ায় ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করা হয়  সংবাদ সম্মেলনে। সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালটির ডিপার্টমেন্টভিত্তিক বিভিন্ন সফলতার গল্পও উঠে আসে আলোচনায়। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে একজন সাধারণ মানুষের কী ধরণের সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত এবং জীবনধারায় কি কি পরিবর্তন আনা জরুরি সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন হাসপাতালটিতে কর্মরত অন্যান্য ডাক্তাররা। ক্যান্সার সনাক্তকরণে স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব নিয়েও হয় বিশেষ আলোচনা। প্রতিটি সচেতন মানুষের বছরে অন্তত একবার স্ক্রিনিং করা অত্যন্ত জরুরি। ক্যান্সার চিকিৎসায় প্রাথমিক স্তরে ক্যান্সার নির্ণয় বেশ কার্যকরী। প্রাথমিক স্তরে ক্যান্সার নির্ণয় করা সম্ভব হলে সে রোগীর ক্যান্সার নির্মূল তুলনামূলক সহজ কেননা ক্যান্সার শরীরের অন্যান্য কোষে ছড়ানোর আগেই চিকিৎসা শুরু করা যায়। এতে আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যয় অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষায়িত ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে আছে এক ছাদের নিচে সব ধরণের চিকিৎসার সুব্যবস্থা। যার মধ্যে সার্জারি, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, প্যালিয়াটিভ কেয়ার সহ আরো অনেক সেবা অন্তর্ভুক্ত। - বিজ্ঞপ্তি