পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইসিবি) চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী সমন্বিত নিট লোকসান হয়েছে ২৩৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যেখানে সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছিল ২০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আইসিবির আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুসারে, চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে আইসিবির এককভাবে নিট লোকসান হয়েছে ২৪৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে একক নিট মুনাফা ছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আলোচ্য হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছিল ২৫ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে আইসিবির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ৫৬ পয়সা।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে ৭৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কর-পরবর্তী সমন্বিত নিট মুনাফা করেছে। যেখানে এর আগের হিসাব বছরে নিট মুনাফা ছিল ১৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা কমেছে ৪৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
তথ্য অনুসারে, সমাপ্ত হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৯২ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ১ টাকা ৭১ পয়সা। এ বছরের ৩০ জুন শেষে প্রতিষ্ঠানটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৩ টাকা ৩৪ পয়সায়, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫২ টাকা ৯৪ পয়সা।
এদিকে আলোচ্য হিসাব বছরে আইসিবি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও ২ দশমিক ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে এ বছরের ২৩ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে। রেকর্ড ডেট ২৯ নভেম্বর।
সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে আইসিবির পর্ষদ। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে আইসিবির কর-পরবর্তী সমন্বিত নিট মুনাফা হয়েছে ১৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা বেড়েছে ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৯ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৫ টাকা ৫৯ পয়সায়। আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ৪৫ টাকা ৯৮ পয়সায়।
এর আগের ২০২০-২১ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আইসিবি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। যেখানে এর আগের বছরে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৭০ পয়সা। এ বছরের ৩০ জুন শেষে সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫৪ টাকা ৯৮ পয়সায়।
এর আগে ২০১৯-২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল আইসিবি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। ২০১৮-১৯ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল আইসিবি। এছাড়া ২০১৭-১৮ হিসাব বছরে ৩০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন আইসিবির শেয়ারহোল্ডাররা। আর ২০১৬-১৭ হিসাব বছরেও একই হারে নগদ ও স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি।
রাষ্ট্রায়ত্ত
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন
১ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে পরিশোধিত মূলধন ৮০৫ কোটি ৮১ লাখ ৬০
হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৮৯৭
কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
মোট শেয়ারের ৬৯ দশমিক ৪৯
শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৭ শতাংশ সরকার,
১ দশমিক ৯৩ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক
বিনিয়োগকারী ও বাকি ১
দশমিক ৫৮ শতাংশ সাধারণ
বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে। ডিএসইতে গত এক বছরে
আইসিবির শেয়ারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর
ছিল যথাক্রমে ৮৭ টাকা ৬০
পয়সা ও ৯২ টাকা।










