চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে উদ্বৃত্তে ছিল তামার বৈশ্বিক বাজার। এ সময় উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ১৫ হাজার টনে। মূলত পরিশোধিত তামা উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় চাহিদার চেয়ে সরবরাহের পরিমাণ ছিল বেশি। ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপের (আইসিএসজি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বছরের প্রথম সাত মাসে বিশ্বজুড়ে খনি থেকে তামা উত্তোলন প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। কনসেনট্রেট উত্তোলন বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ। এ সময় পরিশোধিত তামার বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়েছে ৪ শতাংশ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন খনি অনুসন্ধান এবং খনি সম্প্রসারণের কারণে তামা উত্তোলন বেড়েছে। তবে উত্তোলন বৃদ্ধির হার ছিল সীমিত। চিলি, চীন, ইন্দোনেশিয়া, পানামা ও যুক্তরাষ্ট্রের খনিগুলোয় নানা সমস্যার কারণে উত্তোলন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। 

আইসিএসজি জানায়, বছরের প্রথম প্রান্তিকে তামা উত্তোলনে দশমিক ৯ শতাংশ, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এসেছে।

এদিকে বিশ্বের শীর্ষ উত্তোলক দেশ চিলিতে বছরের প্রথম সাত মাসে উত্তোলন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ শতাংশ কমেছে। দেশটির অনেক খনিতে কার্যক্রমসংক্রান্ত ইস্যুর কারণে উত্তোলন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাছাড়া খরার কারণে পানি সরবরাহ কমে যাওয়া এবং নিম্ন গ্রেডের কারণেও উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ পেরুতে স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে লাস বাম্বাসসহ বিভিন্ন খনিতে উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে এর পরও সাত মাসে দেশটির উত্তোলন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় উত্তোলন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। দেশটির সবচেয়ে বড় খনি গ্রাসবার্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাত এবং ভূমিধসের কারণে উত্তোলন কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা দেশটির মোট উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকরা জানান, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তামার বৈশ্বিক উত্তোলন বাড়লেও আগামী বছরগুলোয় ধাতুটির বাজার সরবরাহ সংকটের মুখে পড়তে পারে। ২০২৭ সালের মধ্যে তামার বৈশ্বিক ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ৪৯ লাখ টনে। ফলে ধাতুটির দাম চলতি বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৯ হাজার ৮০০ ডলারে উন্নীত হতে পারে। চলতি বছর গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ৮ হাজার ২০০ ডলারে।

বিশ্লেষকরা জানান, বর্তমান বিশ্ব জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে ঝুঁকছে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। বড় হচ্ছে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার। এসব খাতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল হিসেবে তামা ও অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে।

২০২৭ সাল নাগাদ চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৯৮ লাখ টনে, যা গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। তবে এ সময় সরবরাহ ১০ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৪৪ লাখ টনে পৌঁছবে, যা চাহিদার চেয়ে কম।

বিশ্বজুড়ে তামার নতুন খনিগুলো নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে। নিম্ন গ্রেড, অনুমোদন পেতে কঠোর প্রক্রিয়া, পরিবেশবাদীদের আন্দোলন, সামাজিক ও সরকারি নানা ইস্যু এবং ঊর্ধ্বমুখী করের মতো বিষয়গুলো খনিগুলোয় উত্তোলন বাধাগ্রস্ত করছে।