স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের আমদানি শুল্ক ব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ)। রাজস্ব ভবনে গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেন ইআরএফের নেতারা। এ সময় সংগঠনটি এনবিআরের কাছে ৩৫টি প্রস্তাবনা তু্লে ধরে।
বৈঠকে ইআরএফের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের শুল্ক স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গড় শুল্কের চেয়ে বেশি। কয়েক বছর ধরে শুল্কহার কমিয়ে আনার কথা বলা বলা হলেও তাতে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায়নি। এরই মধ্যে ভর্তুকি কমানোর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ সহায়তা কমানোর কার্যক্রম শুরু করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকেও বিভিন্ন ধরনের শুল্ক প্রাচীর কমানোর কাজ এ বাজেট থেকেই শুরু করতে হবে। অন্যথায় মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে গেলে হঠাৎ করে শুল্ক কমিয়ে আনার ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে।
এ সময় ইআরএফের নেতারা নতুন অর্থবছরের বাজেটে প্রত্যক্ষ করের দিকে জোর দেয়া, সমন্বিত ডিজিটালাইজেশন কার্যক্রম হাতে নেয়া, কর ছাড় দেয়ার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি রাখা, প্রতি করছাড়ের আদেশের সঙ্গে কত রাজস্ব ক্ষতি হলো তার একটি প্রাক্কলন দেয়া ও করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৩ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকায় উত্তীর্ণ করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাবনা তু্লে ধরেন।
রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইআরএফ সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ মীরধাসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘স্বচ্ছতার জন্য নগদ লেনদেন থেকে বেরিয়ে আাসা জরুরি। সেটা নিয়ে আস্তে আস্তে কাজ করছি। আমরা রফতানি বৈচিত্র্যের দিকে যাব। গার্মেন্টসের মতো অন্য সেক্টরকেও সে সুবিধার আওতায় আনা হবে। ইকোনমিক জোনে থাকলে ১০০ ভাগ বন্ড সুবিধা দিচ্ছি। আংশিক বন্ড ছাড়া রফতানি মার্কেটকে কীভাবে সহজ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি আমরা।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ২০২০ সালের জুনে আয়কর রিটার্ন দাখিল হয়েছিল ২১ লাখ। এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ লাখ রিটার্ন দাখিল হয়েছে, জুন পর্যন্ত ৪০ লাখ হয়ে যাবে। ৩০ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হতে পারে। ২০২০ সালের পর আড়াই গুণ বেড়েছে ভ্যাটদাতার সংখ্যা।










