যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার আগামী বছর কমতে পারে। এ নিয়ে চাপে রয়েছেন ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে কর্মসংস্থান ও মজুরি দুটোই বেড়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির হার আবার মাথাচাড়া দিতে পারে। সেজন্য শিগগিরই ফেডের সুদহার কমানো উচিত হবে না। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

এদিকে ফেডের ২০২৩ সালের ওপেন মার্কেট কমিটির দুই দিনব্যাপী চূড়ান্ত বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে আগামীকাল। সেখানে সুদহার কমানোর পরিকল্পনা প্রণয়ন নিয়ে চাপের মুখে পড়বেন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল। পরবর্তী বছর কখন এবং কত শতাংশ সুদহার কমানো হবে তা প্রকাশ করা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়বেন তিনি। যদিও শ্রমবাজার শক্তিশালী থাকায় ভোক্তা ব্যয় বাড়ছে। ভোক্তাদের ব্যয় ধীরগতিতে বাড়তে থাকায় মূল্যস্ফীতিও কম।

এমন পরিস্থিতিতে ফেডারেল রিজার্ভ তাদের তৃতীয় নীতি বৈঠকে সুদহার ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশে ধরে রাখতে প্রস্তুত, যা ২২ বছরের সর্বোচ্চ। যদিও মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রায় নামিয়ে আনার জন্য সুদহার ‘‌পর্যাপ্ত সীমায়’ পৌঁছেছে বলতে এখনই প্রস্তত নন ফেড কর্মকর্তারা। এছাড়া তারা জনসমক্ষে এটিও বলতে চান না যে পরের বছর ঋণ ব্যয় কমানো হবে।

এমন অবস্থায় চলতি সপ্তাহে জেরোম পাওয়েলের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো কঠোর সতর্কবাণী শুনছে না আর্থিক বাজারগুলো। বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস, বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এরই মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির পথ থেকে সরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তারা মনে করে, ইনকামিং ডাটা ফেডকে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সময়ের মধ্যে সুদহার কমাতে বাধ্য করবে। এমন চিন্তাভাবনা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় আর্থিক অবস্থাকে শিথিল করার দিকে পরিচালিত করেছে।

ফেডের বোর্ড অব গভর্নরদের সাবেক সিনিয়র উপদেষ্টা ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক অ্যালেন মেড বলেন, ‘‌এটি একটি সূক্ষ্ম সময়। কারণ আর্থিক অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

সম্প্রতি ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল জানান, ‌কেন্দ্রীয় ব্যাংক আসন্ন সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাবধানে অগ্রসর হতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি ঘোষণা দেয়ার আগে ফেড কর্তৃপক্ষ একটি নীতি বিবৃতি ও অর্থনৈতিক প্রক্ষেপণ তৈরি করবে, যা সুদহার, প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতির জন্য কর্মকর্তাদের পৃথক পূর্বাভাসকে সমন্বয় করবে। অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশা ফেড এ বিবৃতিকে অপরিবর্তিত রাখবে।